নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় খালেদা জিয়া

khaledaগায়ের জোরে ক্ষমতা ধরে না রেখে ব্রিটেনের গণভোট থেকে শিক্ষা নিয়ে অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দিতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইস্কাটনে লেডিস ক্লাবে এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইফতারপূর্ব এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেন, ব্রিটেনের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তাদের কাছ থেকে শিখুন। জনগণের মতামতকে সম্মান করে গণভোটে এগিয়ে থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, গায়ের জোরে সবকিছু হয় না। ব্রিটেনের পথ অনুসরণ করে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। বাংলাদেশের জনগণও সরকার পরিবর্তন চায়। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকারের হাতে ক্ষমতা দিন। এক্ষেত্রে জনগণ যদি বিএনপিকে জয়ী না করে তাহলেও আমরা মেনে নেব। আর বিএনপিকে সমর্থন দিলে আমরা সরকার গঠন করবো।

শেখ হাসিনার উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগকে আমরা বলব ছাড়ুন। দেখুন বিট্রেনের দিকে। দেখে একটু শিখুন। এখনো গায়ের জোরে অবৈধভাবে ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় দখল বসে আছেন। সেখানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রাইম মিনিস্টার। উনারা গণভোটে হেরে গেছেন তাই ক্ষমতা ছেড়ে দিচ্ছেন, রিজাইন দিচ্ছেন। কাজেই তারা (আওয়ামী লীগ) বলেন আমরা তাদের ফলো করি তাদের অনুযায়ী চলি। কাজেই তাদের এই জিনিসটা দেখে অন্ততপক্ষে আজকে জনগণের যে চাওয়া পাওয়া, জনগণ যে আজকে চায় নিরপেক্ষ সরকার অধীনে নির্বাচন।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই নির্বাচনের জন ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হোক সেই নির্বাচন যাদেরকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে আমরা তাদেরকেই মেনে নিতে রাজি আছি। আমাদেরকে নির্বাচিত করতে অন্যদেরকে সেটা মেনে নিতে হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ কারো কথার ধার ধারে না; এরা মনে করে জোর করে ক্ষমতায় এসেছে জোরে করেই সব কিছু চালিয়ে যাবে। গায়ের জোরে সব কিছু চলানো যায় না, হয় না।

দেশের অবস্থা খুব খারাপ জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, কৃষকরা ধান ও পাটের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অথচ সরকারের উচিত ছিলো কৃষকের কথা বিবেচনায় লাভের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া। কারণ তারাই বলেছিল ক্ষমতায় এসে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ সার, বীজ দেবে, চালের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা করবে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে কিছুই করেনি।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সবাইকে দেয়া কথা বরখেলাপ করেছে। কারো কথার ধার ধারে না। দলীয় করণের ফলে সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ভালো কর্মকর্তাদের বের করে দেয়া হয়েছে তাদের অপরাধ একটাই সেই সব কর্মকর্তা হয়তো বিএনপি করে বা বিএনপির সমর্থন করে।

কৃষি ক্ষেত্রে চরম অবহেলা দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, দেশীয় উৎপাদন না বাড়িয়ে আমদানির প্রবণতা বেড়েছে। এই প্রবণতার কারণ আমদানিতে কমিশন পাওয়া যায়।

বিএনপি সব সময় কৃষি ক্ষেত্রকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপি যদি সুযোগ পায় কৃষি ক্ষেত্রকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। কৃষি গবেষণাকে গুরুত্ব দেয়া হবে যাতে করে তারা বেশিবেশি রিসার্চ করতে পারেন দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে। দেশে আবার কৃষি বিপ্লব ঘটানো হবে।

ইফতার মাহফিলে এ্যাবের সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন, শেরে বাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি  ড. এম ফারুক, কৃষিবিদ ইব্রাহিম খলিল, মোখলেসুর রহমান, আব্দুল লতিফ, সালাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইসচেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাণা উল্লাহ মিয়া, সহ দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, জিয়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হালিম ডালিম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইউনুছ মৃধা, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও  ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপা- উপাচার্য আ ফ ম ইউসূফ হায়দার, শিক্ষক নেতা ড. আ ন ম আখতার হোসেন, ড. সদরুল আমিন, ওবায়দুল ইসলাম, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যচারী জোটের চেয়ারম্যান অধ্যাক্ষ সেলিম ভূইয়া, মহাসচিব জাকির হোসেন প্রমুখ।

Related posts

Leave a Comment