পানামা পেপারসের নথি প্রকাশ

pnanma_3 সোমবার বিকেলে পানামা পেপারস পুরো ডাটাবেজ প্রকাশ করেছে। এতে দুই লাখের বেশি অফশোর অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ফলে কর ফাঁকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
পানামার আইনি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকার মাধ্যমে কর ফাঁকি দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ায় অফশোর লেনদেন সংক্রান্ত নথিগুলো চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে প্রকাশ্যে আসে। পানামা পেপারস নাম দেয়া এসব নথি ফাঁসের পুরো বিষয়টিকে বলা হচ্ছে পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি। ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখেরও বেশি নথি থেকে গেল ৪০ বছর ধরে মোস্যাক ফনসেকা রাজনীতিবিদসহ তাদের মতাশালী মক্কেলদের কিভাবে অর্থপাচারে সহযোগিতা করেছে, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ও কর ফাঁকি দেয়ার পথ দেখিয়েছে, সেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

এতে করে ওইসব ব্যক্তি বিব্রতকর অবস্থায় পড়ার পাশাপাশি ইতোমধ্যে একজন সরকারপ্রধানসহ কয়েকজন পদত্যাগেও বাধ্য হয়েছেন। মোস্যাক ফনসেকা সম্পদ ব্যবস্থাপনার নামে তার কায়েন্টদের জন্য শেল কোম্পানি খুলে দেয়া ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করে। আর এই শেল কোম্পানি হচ্ছে একটি বৈধ ব্যবসার খোলস। মূল অর্থের মালিক কে, তা গোপন রাখার পাশাপাশি ওই অর্থের ব্যবস্থাপনা করাই এ ধরনের কোম্পানির কাজ।

করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন দেশে কোম্পানির কাগুজে ব্যবসায় অবৈধ উৎসের অর্থ বৈধ হয়ে যাবে; তারপর চলে যাবে নিরাপদ কোনো অ্যাকাউন্টে। ওই অর্থের মালিক মোস্যাক ফনসেকার ওই কায়েন্টই থাকবেন, তবে সরকারের কাছে তাকে মোটা অঙ্কের ট্যাক্স দিতে হবে না। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার নিজ নিজ দেশের বিত্তবান ও সেলিব্রেটিদের আর্থিক অনিয়ম তদন্ত শুরু করেছে।

ইতোমধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বন্ধু, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় এবং চীন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের আত্মীয়ের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দিতে মোস্যাক ফনসেকার সহায়তা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

দিয়া ইসলাম / ৭০৬

Related posts

Leave a Comment