নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভে অচল ঢাকা

stu 2০২ আগস্ট ২০১৮(বিবিনিউজ):নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বৃহস্পতিবারও সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, মিরপুর রোড, ফার্মগেট, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে।
গত তিনদিন ধরে চলমান ছাত্র বিক্ষোভ সামাল দিতে বৃহস্পতিবার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল সরকার।
কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি বলে মনে হচ্ছে। আজ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছিলেন। ফলে শহরের বিভিন্ন সড়কে শত-শত যানবাহন আটকা পড়েছে। দীর্ঘ সময় পরিবহন না পেয়ে রিক্সা কিংবা হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করছেন অনেকে।

গত কয়েকদিনের মতো আজও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনের চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে দেখছেন। শহরের বিভিন্ন মোড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেলেও সে তুলনায় পুলিশের উপস্থিতি তেমন একটা চোখে পড়েনি।

এদিকে ঢাকার মিরপুরে পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট -এর সামনের রাস্তায় পুলিশের সাথে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের গোলযোগের খবর পাওয়া গেছে।

ঢাকা শহর জুড়ে আজও পাবলিক বাস খুব একটা চলাচল করতে দেখা যায়নি। অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় বের করেননি। যারা রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন তাদের কেউ-কেউ বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

ঢাকা থেকে দূরপাল্লার কোন বাস চলাচল করছে না। পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন নিরাপত্তা-হীনতার কারণে তারা বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহর এবং রাজশাহীতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছে।

রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে চাপা পড়ে নিহত দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে দোষীদের বিচার চেয়ে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে টানা ৪র্থ দিনের মতো আজ বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

চলমান আন্দোলনের জেরে আজ সারা দেশে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আজো নেমে এসেছে রাস্তায়।

রাজধানীর উত্তরায় জসিম উদ্দিন মোড় থেকে হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সেখানে জড়ো হতে থাকে তারা।

মহাখালীতে সড়ক অবরোধ করেছে বিএফ শাহীন কলেজের ছাত্ররা। মহাখালী থেকে ফার্মগেট ও সাতরাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করছে তারা।

রামপুরায় ব্রিজ অবরোধ করে লাইসেন্স চেক করছে ছাত্ররা। মিরপুর শেওড়াপারায় গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা লাইসেন্স চেক ও বিক্ষোভ করছে।

গুলশান-২ এ রাস্তা অবরোধ করেছে শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও রাজধানীর আরো বিভিন্ন অংশে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে, বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের জেরে আজ বৃহস্পতিবারও রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোতে গণপরিবহনের দেখা মিলেনি খুব একটা। রাস্তায় দুয়েকটি বাস চলতে দেখা গেছে।

গণপরিবহন না থাকায় বিপাকে পড়ে অফিসগামী যাত্রীরা। দুয়েকটি গাড়ি চলছে সড়কে। সেগুলোতে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে অনেক ঠেলাঠেলি করে অফিসগামীদের উঠতে হচ্ছে।

মিরপুর-মতিঝিল, মোহাম্মদপুর-সায়েদাবাদ, উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলাচলকারী নিয়মিত বাসগুলো সড়কে প্রায় দেখাই যায়নি। সকালের দিকে দেখা যায়, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, রোকেয়া সরণি, প্রগতি সরণি, এয়ারপোর্ট রোডে গাড়ি নেই বল্লেই চলে। কয়েকটি বাস চলাচল করছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য।

রাজধানীর গাবতলী ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে দূরপাল্লার যানবাহনগুলোও চলাচল করছে না বলে জানা গেছে।
গুলশান-২ এ রাস্তা অবরোধ করেছে শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দুপুরে ছুটির পরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র আবদুল করিম ওরফে সজীব এবং একই কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী দিয়া খানম ওরফে মিম নিহত হন। তারা রাস্তার পাশের ফুটপাথে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে দু’জন নিহত হন। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। পথচারীরা সাথে সাথে আহতদের কাছের কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার পর ৯ দফা দাবিতে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা।

Related posts

Leave a Comment