অন্যের দেশ গড়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব নয়

111521_7ডেস্ক রিপোর্ট: গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমস-এর দপ্তরে হাজির হন এবং পত্রিকাটির সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন। এতে উপস্থিত ছিলেন পত্রিকাটির বিভিন্ন বিভাগীয় সম্পাদক, প্রতিবেদক ও কলামিস্টরা। সেই কথোপকথনের নির্বাচিত অংশের অনূদিত ভাষ্য প্রথম আলোর পাঠকদের জন্য ছাপা হলো।

আর্থার সুলজবার্গার জুনিয়র: আমাদের কার্যালয়ে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আবারও বলি, আমাদের এই কথোপকথন প্রকাশ করা হবে।

ডোনাল্ড জে ট্রাম্প: ঠিক আছে।

সুলজবার্গার: আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, এখানে আমাদের বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগের কর্মী ও কলামিস্টরা আছেন।

ট্রাম্প: আচ্ছা, ভালো।

সুলজবার্গার: আমি ভাবছিলাম, আপনার এই দায়িত্ব পাওয়া সম্পর্কে সবচেয়ে সহজ প্রশ্নগুলো দিয়ে শুরু করার আগে আপনার কাছে জানতে চাইব, শুরুতেই আপনি কিছু বলতে চান কি না।

ট্রাম্প: আচ্ছা, ঠিক আছে। এ বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আর নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা আছে। সাংঘাতিক শ্রদ্ধা। এই পত্রিকা একেবারেই অন্য রকম। তবে আমার সঙ্গে বেশ রূঢ় আচরণ করা হয়েছে। সত্যিকার অর্থে, আমার সঙ্গে ভীষণ অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে। আমি শুধু নিউইয়র্ক টাইমস-এর বিরুদ্ধে অভিযোগই করব না; আমি বলব, নিউইয়র্ক টাইমস আমার প্রতি সবচেয়ে রূঢ় আচরণ করেছে। ওয়াশিংটন পোস্টও খারাপ করেছে। কিন্তু তাদের পত্রিকায় আমার সম্পর্কে মাঝেমধ্যে দু-একটি ভালো নিবন্ধও ছাপা হয়েছে। দেখুন, আপনাদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা আছে। তাই ব্যাপারটা আমি বদলে দিতে চাই। আমি নিজের কাজটা সহজ করতে চাই। সে লক্ষ্যে অনেক মহান মানুষকে সরকারে যুক্ত করতে চাই। তাঁরা আসছেন। শিগগিরই তাঁদের নাম ঘোষণা করা হবে। তাঁরা নিজেদের অসাধারণ ক্যারিয়ার ছেড়ে আপনাদের নজরদারির মধ্যে আসবেন। তাঁরা সত্যিই দারুণ।

রেইন্স প্রিবাস: [অস্পষ্ট]৷

ট্রাম্প: আমরা খুব চেষ্টা করছি সেরা লোকদের পেতে। এমন নয় যে যাঁরা রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে সঠিক, তাঁদেরই নেওয়া হবে। কারণ এতে কাজ হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের সত্যিই অনেক বিশেষজ্ঞ আছেন। তাঁদের কেউ পরিচিত, কেউ নন। কিন্তু নিজেদের কাজে তাঁরা শ্রেষ্ঠ। এটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাগি হেবারম্যান: মিস্টার প্রেসিডেন্ট, এখানে আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আজ সকালে কেলি–অ্যান কনওয়ে বললেন, হিলারি ক্লিনটনের বিচার হচ্ছে না। আমরা আশা করছি, আপনি বলবেন তাঁর এই কথার অর্থ ঠিক কী—এটা কি শুধু ই-মেইলের ব্যাপারে? নাকি ই-মেইল ও ক্লিনটন ফাউন্ডেশন—উভয় ব্যাপারেই? আর এই সিদ্ধান্তে আপনারা কীভাবে পৌঁছালেন?

ট্রাম্প: আচ্ছা, একটা প্রতিবেদনে একজনের কথা উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আমি এ ব্যাপারে আগ্রহী নই। দেখুন, আমি আসলে সামনের দিকে তাকাতে চাই, পেছনে যেতে চাই না। আর আমি ক্লিনটন পরিবারকে আঘাত করতে চাই না। সত্যিই চাই না।

ম্যাথিউ পার্ডি: তাহলে আপনি তদন্তের ব্যাপারটা নিশ্চিতভাবেই বাদ দিচ্ছেন?

ট্রাম্প: না, কিন্তু প্রশ্নটা জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।

পার্ডি: ই-মেইল আর ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের ব্যাপারে?

ট্রাম্প: আসলে আমি এ বিষয়টা নিয়ে গভীরভাবে ভাবছি না। আমি বেশি ভাবছি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে। আমি অভিবাসন বিষয়ে একটা আইন নিয়ে গভীরভাবে ভাবছি, সেটা শুনলে আপনারাও খুশি হবেন। আপনারা জানেন, এটা নিয়ে আমরা ৫০ বছর ধরে চিন্তাভাবনা করছি। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। আমি আসলে একটা ন্যায্য ও যথাযথ অভিবাসন আইনের ব্যাপারে গভীরভাবে ভাবছি। আরও অনেক বিষয়েই আমরা ভাবছি।

ক্যারোলিন রায়ান: এতে কি আপনার সমর্থকেরা হতাশ হবেন না?

ট্রাম্প: না, আমি মনে করি না যে তাঁরা এতে হতাশ হবেন। আমি তাঁদের কাছে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করব। দেশকে রক্ষা করতে হলে আমাদের নানাভাবেই তা করতে হবে। কারণ, আমাদের দেশ সত্যিই গভীর সমস্যায় পড়েছে। একটা বড় সমস্যার কথা আমি বলি, সেটা হচ্ছে বিভক্তি। এ কথা শুনলে অনেকেই খুশি হবেন; কিন্তু আমি কথাটা সে জন্য বলছি না। বলছি এ জন্য যে আমাদের এখন ভিন্ন পথে হাঁটতে হবে।

টমাস এল ফ্রিডম্যান: মিস্টার প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট, আমি কি একটা প্রশ্ন করতে পারি? প্রশ্নটা আমার একদম অন্তরের প্রশ্ন। কিন্তু আপনি প্রচারণার সময় এ বিষয়ে কিছু বলা থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিরত থেকেছেন এবং এখন পর্যন্ত কিছু বলেননি। বিষয়টা হলো জলবায়ু পরিবর্তন ও প্যারিস চুক্তি। এ বিষয়ে আপনার মনোভাব কী?

ট্রাম্প: হ্যাঁ, ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রিডম্যান: অনেক মানুষই জানতে চান, আপনি এ বিষয়ে কী করতে চান? এ ক্ষেত্রে তো যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিচ্ছেৃ আপনি কি তাকে সেখানে থেকে সরিয়ে আনবেন?

ট্রাম্প: আমি বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখছি। ব্যাপারটা হচ্ছে, এ ব্যাপারে আমার মনটা খোলা আছে। এটা কৌতূহলোদ্দীপক। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া আরও কিছু বিষয়ে তীব্র মতভেদ রয়েছে। আপনারা এটা শুনতে চান না, কিন্তু আরও অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা এটা শুনতে চান।

সুলজবার্গার: আমরা তো একটি দ্বীপে অবস্থান করছি। আপনাকে ধন্যবাদ, এ ব্যাপারে আপনার মনটা খোলা! ঝড়ঝঞ্ঝা পৃথিবীতে এখন কী করছে, আমরা তা জানি। আমরা সবাই তা দেখেছি!

ফ্রিডম্যান: কিন্তু এ ব্যাপারে সত্যিই কি আপনার মন খোলা?

ট্রাম্প: হ্যাঁ, আমি এ বিষয়ে খোলামন। কিন্তু ঝড়বাদল তো আগেও হয়েছে।

সুলজবার্গার: কিন্তু এখনকার মতো ঝড় ছিল না!

ট্রাম্প: আপনি জেনে থাকবেন, পৃথিবীর উষ্ণতম দিনটি ছিল ১৮৯০ দশকে, সম্ভবত ১৮৯৮ সালে। একটি জিনিস আপনি ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিতেও দেখতে পারেন। আমার মনটা একেবারেই খোলা। হ্যাঁ, অবশ্যই পরিষ্কার বায়ু, পানি বা একদম স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ পানি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে পরিবেশবাদীরা অনেক পথ বাতলে ফেলেছেন। আমার খুবই দারুণ ও সফল কিছু গলফ কোর্স আছে। আপনারা জানেন, আমি অনেক পরিবেশ পুরস্কারও পেয়েছি!

জেমস বেনেট: আপনি যখন খোলা মনে কথা বলছেন, তখন কি আপনি মনে করেন, মানুষের কার্যক্রমের কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন হয়?

ট্রাম্প: এখনই তা মনে করছিৃআমার মনে হয়, মানুষের কার্যক্রমের সঙ্গে এর কিছুটা সম্পর্ক আছে। হ্যাঁ, কিছুটা তো আছেই। এটা নির্ভর করে পরিমাণের ওপর। এর জন্য আমাদের কোম্পানিগুলোকে কত টাকা গুনতে হয়, তার ওপরও এটা নির্ভর করবে। আপনারা জানেন, আমাদের কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। একদমই। চার সপ্তাহ আগে আমি অনেক বক্তৃতায় কিছু ছোট ছোট বাক্য যুক্ত করি: জর্জ ডব্লিউ বুশের আমল থেকে এ পর্যন্ত আমাদের ৭০ হাজার কারখানা অন্যান্য দেশে চলে গেছে। এই পরিসংখ্যানটা যখন হাতে এল, তখন ভেবেছিলাম, এটা টাইপের ভুল। সংখ্যাটা যেমন ৭০ নয়, তেমনি ৭০ হাজারও হতে পারে না। কিন্তু না, ব্যাপারটা সত্য। আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে পেরে উঠছি না। সেই সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

মাইকেল ডি শিয়ার: একটি ছোট্ট প্রশ্ন। আপনি কি প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চান?

ট্রাম্প: বিষয়টি আমি ভেবে দেখব।

ফ্রিডম্যান: আচ্ছা, বিশ্ব পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হবে? আপনি কি মনে করেন, এই ভূমিকাৃ

ট্রাম্প: এটা তো অনেক বড় প্রশ্ন।

ফ্রিডম্যান: ৫০ বছর ধরে ভূরাজনীতিতে আমরা ভারসাম্য রক্ষার কাজ করেছি। আমাদের স্বার্থের জন্য যা প্রয়োজন, তার জন্য আমাদের অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে। আপনার কাছ থেকে শুনতে চাই, আমাদের সেই ভূমিকা কি সংকুচিত হচ্ছে?

ট্রাম্প: আমার মনে হয়, পৃথিবীর দেশে দেশে গিয়ে জাতি গঠনকারীর ভূমিকা নেওয়া আমাদের উচিত নয়। আমরা সেই চেষ্টা করে দেখেছি। ইরাকে যাওয়া আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভুলগুলোর একটি। আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি ভুলভাবে। তাই অনেক খারাপ ব্যাপার ঘটেছে, যেমন আইএস গঠন। আমরা ওখান থেকে ভিন্ন কায়দায় বেরিয়ে আসতে পারতাম।

ফ্রিডম্যান: ন্যাটো, রাশিয়া?

ট্রাম্প: আমি মনে করি (ইরাকে যাওয়া) ছিল একটা মারাত্মক ভুল। এখন সিরিয়া, সিরিয়ার সমস্যা আমাদের সমাধান করতে হতো। কারণ আমরা অনন্তকাল ধরে শুধু লড়াই করেই যাচ্ছি। অন্যদের তুলনায় সিরিয়া সম্পর্কে আমার মনোভাব একটু ভিন্ন। সবার থেকে নয়, তবে অনেকের চেয়ে ভিন্ন। (সিনেটর) লিন্ডসে গ্রাহামের কথা শুনতে হয়েছে আমাকে। মনে হয়েছে, আমরা সিরিয়ায় হামলা করব, রাশিয়া ও ইরানও বাদ যাবে কেন? এ থেকে আমরা কী পাচ্ছি? সিরিয়া সম্পর্কে আমার খুবই পোক্ত ও সুনির্দিষ্ট ধারণা রয়েছে। আমি মনে করি, খুবই খারাপ কিছু ব্যাপার ঘটেছে। হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। আমি শুধু আমাদের পক্ষের কথা বলছি না। এটা লজ্জাকর। ভালো হয়, যদি আমরা সিরিয়ার ব্যাপারে কিছু করতে পারি। আমি পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে ফোন করেছিলেন…

অপরিচিত কণ্ঠ: এই সম্পর্ক কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

ট্রাম্প: সবাই কিন্তু আমাকে ফোন করেছেৃসব গুরুত্বপূর্ণ নেতাই।

ফ্রিডম্যান: আপনি কি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে শুরু করবেন (রিসেট)?

ট্রাম্প: আগে যা হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি এই শব্দটা (রিসেট) ব্যবহার করব না। রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে পারলে আমার খুব ভালো লাগবে। আমার মনে হয়, তারাও আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে পারলে খুশি হবে। এটা উভয়ের স্বার্থে। আমি পূর্বধারণার বশবর্তী হয়ে কিছু করতে চাই না। নির্বাচনী প্রচারণার সময় যখন লোকে বলত, ট্রাম্প পুতিনকে ভালোবাসেন, পুতিনও ট্রাম্পকে ভালোবাসেন। হাজার হাজার মানুষের সামনে বলতে চাই, আমি পুতিনকে ভালোবাসি। রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের উন্নতি হলে ব্যাপারটা কি ভালো হবে না? আমরা যদি একসঙ্গে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করি, তাহলে কি ব্যাপারটা ভালো হবে না? এটা যেমন একদিকে বিপজ্জনক, তেমনি ব্যয়বহুলও বটে। এটা হলে লোকে কি আমাকে বাহবা দেবে না? শুধু রাশিয়া নয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্কের উন্নতি হলে কি ব্যাপারটা ভালো হবে না?

জোসেফ কান: সিরিয়া যুদ্ধ সম্পর্কে আপনি বলেছেন, এ ব্যাপারে আপনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে? আপনি কি একটু বিস্তারিত বলবেন?

ট্রাম্প: এটুকু বলতে পারি, সিরিয়ায় যে পাগলামি চলছে, তার অবসান ঘটাতে হবে। এ ব্যাপারে আমাকে কিছু বলা হয়েছে। তবে সে সম্পর্কে অন দ্য রেকর্ড (জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য) কিছু বলতে চাই না, অব দ্য রেকর্ড বলতে চাইৃ (রেকর্ড নেই…)

(অন দ্য রেকর্ডে আসার পর)

হেবারম্যান: দুটি প্রশ্ন আছে। একটি হচ্ছে নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াটারবোর্ডিং (একধরনের নির্যাতন-পদ্ধতি: কাপড় দিয়ে মুখমণ্ডল বেঁধে তার ওপর পানি ঢালা।) নতুন করে প্রয়োগ করার ব্যাপারে বলেছেন, এটি আবার প্রয়োগ করা হতেও পারে, আবার না-ও হতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও আপনি এ কথা বলেছেন। জানতে চাই, আপনি নির্যাতনকে কীভাবে দেখেন? আর আপনার প্রশাসনে জেরার্ড কুশনারের (ট্রাম্পের জামাতা) কী ভূমিকা হবে? আপনি কি তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরিয়ে আনবেন?

ট্রাম্প: সম্ভবত কিছু নয়। আমি চাই না, লোকে ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) প্রসঙ্গে কিছু বলুক। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চাইলে দ্বন্দ্বের বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারেন, কিন্তু আমি তা করতে চাই না। জেরার্ড খুবই চৌকস একজন মানুষ। যাঁরা তাঁকে চেনেন, তাঁরা জানেন, তিনি উচ্চমানের একজন মানুষ। আমি মনে করি, তাঁকে অনেক কাজে লাগানো যেতে পারে। আমি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখতে চাই। সেটা এক বড় অর্জন হবে। কারণ, এখন পর্যন্ত কেউ তা করতে পারেনি।

হেবারম্যান: নির্যাতন ও ওয়াটারবোর্ডিং সম্পর্কে?

ট্রাম্প: জেনারেল ম্যাটিসের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি খুবই শ্রদ্ধাভাজন একজন মানুষ। বস্তুত আমি আরও কয়েকজন জেনারেলের সঙ্গে দেখা করেছি। তাঁকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী করার বিষয়টি আমরা খুবই গুরুত্বসহকারে ভাবছি। আমি মনে করি, একজন জেনারেলের ওই পদে আসীন হওয়া উচিত। কী ঘটছে দেখুন না। আমরা জিততে পারি না। আমরা কোনো কিছুতেই জিততে পারি না। জেনারেল ম্যাটিস খুবই শক্তিশালী ও শ্রদ্ধেয় মানুষ। তাঁর সঙ্গে আমার বিস্তারিত কথা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ওয়াটারবোর্ডিং সম্পর্কে আপনি কী ভাবছেন? তিনি বলেছেন, ‘আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। কখনোই মনে হয়নি, এটা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা। সব সময়ই দেখেছি, আমাকে এক প্যাকেট সিগারেট ও কয়েকটি বিয়ার দিন, নির্যাতনের চেয়ে এটাই ভালো কাজ করবে।’ এই উত্তর শুনে আমি মুগ্ধ হয়েছি। আমি বিস্মিত হয়েছি, কারণ তিনি খুব কড়া মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন যে আমার মন পরিবর্তন হয়েছে, সে কথা বলছি না। দেখুন, কিছু মানুষ অন্য মানুষের গলা কাটছে, স্টিলের খাঁচায় ভরে মানুষকে পানিতে নামাচ্ছে, আর আমরা ওয়াটারবোর্ডিং করতে পারি না। প্রকৃতপক্ষে এতে তেমন একটা ভিন্নতা আসবে না। যদি মার্কিন নাগরিকেরা মনে করেন এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে আমরা ব্যাপারটা হাতে নেব।

সুলজবার্গার: এবার শেষ প্রশ্নটি করবেন আমাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক টমসন।

ট্রাম্প: খুবই ক্ষমতাধর মানুষ তিনিৃ

টমসন: ধন্যবাদ, আমি খুবই ছোট একটি প্রশ্ন করব। মানহানি ও এ-বিষয়ক আইন নিয়ে এত কথার পর জানতে চাই, আপনি কি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ?

ট্রাম্প: ভাবছিলাম, তিনি এ প্রসঙ্গে কথা বলবেন না। আমার মনে হয়, উত্তর শুনে আপনারা খুশি হবেন। এ সম্পর্কে আমাকে কোনো এক ব্যক্তি কিছু বলেছিলেন। আপনারা জানেন, এই আইনগুলো শিথিল করা চিন্তা হিসেবে ভালোই। কিন্তু এতে আপনার বিরুদ্ধে অনেক মামলা হতে পারে। আমি বললাম, আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি কখনোই এ নিয়ে ভাবিনি, ভাবা শুরু করতে হবে। তাই সমস্যা নেই, আপনারা সবাই ভালোই থাকবেন।

সুলজবার্গার: আপনাকে ধন্যবাদ আমাদের এখানে আসার জন্য।

ট্রাম্প: আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। এটা আমার জন্য সত্যিই এক বড় সম্মান। আমি বলব, নিউইয়র্ক টাইমস যুক্তরাষ্ট্রের এক বড় রত্ন। আশা করি, আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে।

আলাপচারিত ও ছবি নেওয়া হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস-এর অনলাইন সংস্করণথেকে। সূত্র : প্রথম আলো

 

 

মিতু/বিবি নিউজ/৩৪৭

Related posts

Leave a Comment