২১ মার্চ ২০২২(বিবিনিউজ): একটা দেশের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন সু-নাগরিক। আর একজন সু-নাগরিক পেতে হলে শিশু বয়স থেকেই সন্তানকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করা দরকার। এ জন্য সন্তান জন্মের পর থেকেই তার বেড়ে ওঠার প্রতি নজর দিতে হবে। বিশেষ করে শিশু বয়স থেকেই তার খাওয়ার প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। সব সময় মনে রাখতে হবে- একটা শিশুর জন্য মায়ের দুধের কোন বিকল্প নেই। আজ কাল অনেকেই নাগরিক ব্যস্ততা কিংবা অনেক মা নিজের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে শিশুকে মায়ের দুধের পরিবর্তে ফিডারে খাওয়ায়। যা মোটেই বিজ্ঞানসম্মত নয়। ফিডারে খাওয়ালে ছোট বয়স থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে শিশু। বার বার অসুস্থ হতে পারে। ফিডারে খাওয়ানো এক শিশু রাফসান। সাড়ে ছয় মাস বয়সী রাফসান হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। শুরু হয় ডায়রিয়া। এ সময় ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ আর স্যালাইন খাওয়াতে হয় কয়েকদিন। অসুখের পরে খুব দুর্বল হয়ে পড়ে বাচ্চাটি। এরপর মাস না যেতেই আবার অসুস্থ হয়ে রাফসান। এবার ডাক্তারের পরামর্শে ভর্তি করাতে হয় হাসপাতালে।
রাফসানের মত এগার মাস বয়সী মুনও বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরমধ্যেই সে দু’বার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। দুবারই সে বেশ কিছুদিনের জন্য ভর্তি ছিল হাসপাতালে।
রাফসান আর মুনের মত আরো অনেক বাচ্চাই ভুগছে নানা ধরনের অসুস্থতায়। আর এসব অসুস্থতার মূল কারন হচ্ছে ফিডার। এখন প্রায়ই শিশুদের ফিডারের মাধ্যমে দুধসহ অন্যান্য খাবার দিচ্ছে বাবা-মায়েরা। আবার অনেকে– শিশু যথেষ্ট মায়ের দুধ পাচ্ছে না– এমন ধারনা থেকে শিশুকে ফিডারে খাওয়ানো শুরু করেন। আর এ কারনে শিশুরা ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগ যেমন- নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, ডায়াবেটিক, একজিমা, কানপাকা, শিশুর প্রথম বয়সে মৃত্যু, অতিরক্তি ওজনে ভুগতে পারে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদুর রহমান বলেন, মায়েদের নিপল ফিডারের নিপলের তুলনায় শক্ত। তাই শিশুরা যখন সহজে ফিডারে দুধ পায় অথবা অন্যান্য খাবার খেতে পারে তখন তারা আর মায়ের দুধের প্রতি আগ্রহ দেখায় না। আর মায়ের দুধ কম পান করার ফলে মায়েদের দুধের প্রবাহ কমে হয়ে আসে।
তিনি বলেন, এ ছাড়াও ফিডার কখনোই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। অনেক সময় এটা ভালো করে পরিষ্কারও করা হয় না। যার কারনে শিশুদের বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি লেগেই থাকে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, ফিডারের নিপলের সাহায্যে শিশুর ছোট মুখগহ্বরে ফর্মুলা দুধের ধারা কখনো সরু, কখনো জোরে নেমে আসে। শিশু যদি তাল মিলিয়ে তা গিলতে না পারে, তবে হঠাৎ গলায় আটকে যায়। এতে দুধ শ্বাসনালি বা ফুসফুসে ঢুকে মারাত্মক সমস্যা তৈরি করে। এছাড়াও ফিডারে পান করার ফলে দাঁতে গর্ত তৈরী হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় শিশু বয়সে অনেক শিশুর কান পেঁকে যায়। এতে শিশুরা খুব কষ্ট পায়। আর ফিডার হল এই কানপাকা রোগের অন্যতম কারন। মূলত ঘুমন্ত শিশুর মুখের ভেতর জমে থাকা ফর্মুলা দুধ সংযোগনালি বেয়ে কানে প্রবেশ করে ও সংক্রমণ ঘটায়।
এছাড়াও বাজারের ফর্মূলা দুধ খাওয়ানোর ঘনত্ব নির্ণয় করতে পারেন না বাবা-মায়েরা। শিশুকে যদি অতিরিক্ত খাওয়ানো হয় তবে তার মেদ বেড়ে যেতে পারে। আবার অনেকে একেক সময় একেক ধরনের ব্র্যান্ডের দুধ খাওয়ায়। এটাও শিশুর জন্য খুব বেশি ভালো নয়।
তিনি বলেন, ফিডার বা বোতলে খাওয়ানোর সময় নিপলের ছিদ্রপথে শিশুর পেটে বাতাস ঢোকে, তাতে শিশুর পেটব্যথা উপসর্গ তৈরি হয়। শিশুর অন্ত্রে নানা রকম জীবাণুর প্রবেশ ঘটে, ফলে সে দুধের অ্যালার্জি-জনিত অসুখ ছাড়াও উদরাময় রোগে ভোগে। সঙ্গে দেখা দেয় কোষ্ঠকাঠিন্য।
তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ফিডারে খাওয়ানো শুরু করলে শিশু আর মাতৃদুগ্ধ পান করতে চায় না। এতে সে মায়ের দুধের সব উপকার থেকে বঞ্চিত হয়। মায়ের দুধ প্রথম ছয় মাস পান করেনি, এ ধরনের শিশুর মৃত্যুহার অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। এজন্য সব শিশুকে অন্তত প্রথম ছয়মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ পান করানোর জন্য সব বাবা-মায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
কান পাকা রোগের অন্যতম কারণ শিশুদের ফিডারে খাওয়ানো
