
২০ জুলাই ২০২০(বিবিনিউজ):তিন দিনে এক লাখ নতুন সংক্রমণের মধ্য দিয়ে ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেল। কিছু দিন আগে পর্যন্ত যে দেশে দৈনিক সংক্রমণের হার ছিল ১০ হাজার, আজ সোমবার তা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। পাশাপাশি আজ থেকেই শুরু হয়েছে মানুষের উপর ভারতে তৈরি করোনা প্রতিষেধক ‘কোভ্যাক্সিন’এর ট্রায়াল।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘন্টায় দেশে নতুন সংক্রমিত হয়েছেন ৪০ হাজার ৪২৫ জন। গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে সংক্রমণের নতুন রেকর্ড যা ভেঙে যাচ্ছে পরের দিন।
সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারতে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা ১১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩ জন। সংক্রমণের হার বা ‘পজিটিভিটি রেট’ (কত নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে ও কত জনের সংক্রমণ ধরা পড়ছে) যা ছিল ১০ শতাংশের আশপাশে, তা গত চব্বিশ ঘন্টায় বেড়ে হয়েছে ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ, সংক্রমণ বেড়েছে দেড় গুণের বেশি।
পরীক্ষা ও সংক্রমণের পাশাপাশি বেড়ে চলেছে মৃত্যু মিছিলও। আজ মারা গেছেন ৬৮১ জন। মোট মৃত্যু ২৭ হাজার ৪৯৭। সব দিক থেকেই এক নম্বরে রয়েছে মহারাষ্ট্র। শুধু এই রাজ্যেই মারা গেছেন ১১ হাজার ৮৫৪ জন। এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে কর্নাটক (১ হাজার ৩৩১), পশ্চিমবঙ্গ (১ হাজার ১১২) ও উত্তর প্রদেশে (১ হাজার ১৪৬)। তামিলনাড়ু ও গুজরাটে মারা গেছেন ২ হাজারের বেশি। মৃত্যুর দিক থেকে দিল্লি দ্বিতীয় স্থানে। মারা গেছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ। তবে গত কয়েকদিন ধরে দিল্লিতে সংক্রমণের হার কম। যেখানে দৈনিক সংক্রমণ ৪ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, কয়েক দিন ধরে তা দেড় হাজারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। রাজ্য সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, বহু কোভিড কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছ্।ে অনেক হোটেল ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে মালিকদের কাছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যা সাড়ে ৭ লাখ। ৬২ শতাংশ রোগী ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন।
সংক্রমণ লাগাম ছাড়া হওয়া সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন দেশে এখনো গোষ্ঠী সংক্রমণ ঘটেনি। দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের (এইমস) পরিচালক রণদীপ গুলেরিয়া সোমবার বলেছেন, গোষ্ঠী সংক্রমণের কোনো অকাট্য প্রমান এখনো নেই। তবে শহরের জনবহুল এলাকাগুলোয় ঠিক মতো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে স্থানীয়ভাবে বহু মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতে তৈরি করোনা প্রতিষেধক ‘কোভ্যাক্সিন’এর মানুষের ওপর পরীক্ষার প্রথম পর্ব সোমবার থেকে শুরু হলো। দেশের মোট ১২টি শহরে এই পরীক্ষা এক যোগে চলবে।
রণদীপ গুলেরিয়া আজ জানান, এইমসে কোভ্যাক্সিনের মনুষ্য ট্রায়ালের প্রথম পর্বের জন্য ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ৩৭৫ জনকে বাছা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই প্রতিষেধক দেওয়া হবে ১২ থেকে ৬৫ বছর বয়সী ৭৫০ জনকে। কোমর্বিডিটি (পার্শ্ব কোনো অসুখ) নেই এমন স্বাস্থ্যবানদের এ জন্য বাছা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিষেধক পরীক্ষার জন্য মানুষ স্বত:প্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসছেন।
