মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে অবশ্যই: প্রধানমন্ত্রী

১৬ জুলাই, ২০১৯ (বিবিনিউজ) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি তাঁর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে সোমবার বলেছেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অবশ্যই শুরু করতে হবে। আমরা আর কতদিন এ বোঝা বহন করবো? রোহিঙ্গাদের যত তাড়াতাড়ি প্রত্যাবাসন করা হবে, তা সকলের জন্য হবে মঙ্গলজনক ।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মারি-এনিক বুর্দিন সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন।
বৈঠকের পর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলো বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে তাদের জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণসহ মিয়ানমারের ভিতরে কাজ করতে হবে।
কক্সবাজারে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সংখ্যা স্থানীয়দের সংখ্যা থেকে ছাড়িয়ে গেছে। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিয়েছে।
জবাবে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত তার দেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা এই ইস্যুতে শুরু থেকেই বাংলাদেশকে সহায়তা শুরু করেছি এবং এটি অব্যাহত থাকবে।’
তবে মারি-এনিক বুর্দিন বলেন, বর্তমানে মিয়ানমারের অবস্থা রোহিঙ্গাদের ফিরে যাবার অনুকূল নয়।
রাষ্ট্রদূত জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ফ্রান্সের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণে খুবই দায়ী হলেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম।
তিনি বলেন, ‘দেশের উপকূলীয় জেলাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমরা উপকূলীয় একটি সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলব।’
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে প্রথম বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করেছিলেন।
শেখ হাসিনা বিদায়ী রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে সফলভাবে তার দায়িত্বের মেয়াদ সম্পন্ন করার জন্য অভিনন্দন জানান এবং দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন বাংলাদেশের জনগণ ও কর্মকর্তারা খুবই আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য মো. নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Related posts

Leave a Comment