
২২ মে ,২০১৯(বিবিনিউজ):ঘড়ির কাঁটায় সময় বুধবার সকাল ৯টা ১৮ মিনিট। স্টেশনের ১৬ নম্বর কাউন্টারের সামনে টিকিট নিয়ে ‘বিজয়ী উল্লাসে’ মেতে ওঠেন মো. রায়হান নামের এক যুবক। ট্রফির মতো করে টিকিট উঁচিয়ে ধরে চিৎকার করেন তিনি। খানিকটা এগিয়ে এসে রায়হান বলেন ‘গতকাল মঙ্গলবার সকাল আটটার সময় কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়েছি। আজ সকাল সোয়া নয়টার পর দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের এসির চারটি টিকিট পাইছি।’
মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে টিকিট কিনতে পারতেন? এত কষ্ট করলেন কেন? প্রশ্নের উত্তরে রায়হান বলেন, ‘অ্যাপস কাজ করছে না। ৩০ মের টিকিটের জন্য গতকাল অ্যাপস লগইন করছি। লগইন ফেল দেখাচ্ছে। বলছে, ৫০ পারসেন্ট টিকিট বিক্রি করবে। কিন্তু ৫ পারসেন্টও পাওয়া যাচ্ছে না। অ্যাপস খালি ঘোরে। টিকিট পাইছি সাধনা করে।’
রায়হানের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনীক নামের এক যুবক। তিনি বলেন, ‘২৯ মের টিকিট অ্যাপসে পাওয়া গেছে। ভালোভাবেই টিকিট কেনা গেছে। কিন্তু গতকাল থেকে অ্যাপস কাজই করছে না। রাত ১০টার পর থেকে তো অ্যাপস খুলছেই না। অ্যাপস যদি কাজ না-ই করবে, তাহলে ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রির কথা বলা হলো কেন?’
রায়হান, অনীকদের মতো অ্যাপসে টিকিট কেনা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ শোনা যায় ঠাকুরগাঁওয়ের আবুল কাশেম, আবু তাহের, নারীদের জন্য সংরক্ষিত ১৭ নম্বর কাউন্টারের আফিফা নওশিনের মুখে।
তাঁদের কাছ থেকে অভিযোগ জানার আধা ঘণ্টার পর সকাল ১০টার কিছু পর টিকিট বিক্রির কার্যক্রম দেখতে আসেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী মো. রফিকুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রায় মিনিট বিশেক টিকিট বিক্রির কার্যক্রম দেখেন এবং টিকিটপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলেন রেলমন্ত্রী। তিনি আসার কিছুক্ষণ আগে অনলাইনে টিকিট পেতে ভোগান্তির অভিযোগ পেয়ে কমলাপুরে অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমের সার্ভার রুমে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দল। আজ সকাল ১০টার দিকে দুদকের তিন সদস্যের একটি দল এই অভিযান চালায়। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন দুদকের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন। তাঁরা অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমের সার্ভারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
