ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনে ইরাকের মসুলে ৪০ বেসামরিক মানুষকে হত্যার পর তাদের মরদেহ বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে নিজেদের নৃশংসতার কথা আরেকবার বিশ্ববাসীকে জানিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশন থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। খবর বিবিসির।এছাড়া আইএসের মোবাইল ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা না মানার কারণে প্রকাশ্যে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।আইএসের হাত থেকে মসুল পুনরুদ্ধারে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে আইএস।
জাতিংসঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইএসের নিজস্ব আদালতের নির্দেশক্রমেই এসব হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে।
যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকের মরদেহে কমলা রঙের পোশাক রয়েছে এবং লালাকালিতে তাতে লেখা- বিশ্বাসঘাতকরা আইএসএফের (ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী) এজেন্ট।জাতিসংঘ বলছে, তথ্য ফাঁসের অভিযোগে বুধবার সন্ধ্যায় মসুলের ঘাবাত সামরিক ঘাঁটিতেও ২০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আইএসের হয়ে পথে নামা কিশোরদের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বুধবার আইএস একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চারজনকে গুলি করে হত্যা করছে শিশুরা। জাতিসংঘ আরো বলছে, গত ৬ নভেম্বর আইএস ঘোষণা করেছে মসুলের পূর্বাঞ্চলের কোকাজি শহরের একটি যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে যাওয়ায় নিজেদেরই সাত যোদ্ধার শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। জাতিসংঘকে যারা এসব তথ্য দিয়েছেন তাদের মধ্যে একজন মৃতের ভান করে পড়ে থেকে আইএস যোদ্ধাদের গণহত্যার হাত থেকে প্রাণ বাঁচিয়েছেন। সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার তাগাদা দিয়ে জাতিসংঘ হুঁশিয়ার করে দিয়েছে, রাসায়নিক অস্ত্রে ব্যবহারের জন্য বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়া এবং সালফার মজুদ করছে আইএস। ২০১৪ সাল থেকে মসুল শহরটি নিজেদের দখলে রেখেছে আইএস। শহরটি উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে ইরাকি বাহিনী। গেল চার সপ্তাহ এ অভিযান চলছে। ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মী, সৈনিক, পুলিশ, কুর্দিশ পেশমেগরা যোদ্ধা, সুন্নি আরব উপজাতি এবং শিয়া যোদ্ধা মিলিয়ে মোট ৫০ হাজার জনের একটি বাহিনী এ অভিযান চালাচ্ছে। সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধের নৃশংসতার অভিযোগ উঠেছে।
মিতু/বিবি নিউজ/২৩৩
