ব্রাজিলীয় ফুটবল টিমের বিমান দুর্ঘটনা : ডিফেন্ডার, দুই গোলকিপারসহ ৬ জন জীবিত উদ্ধার

2016-11-29_3_761097ডেস্ক রিপোর্ট: ব্রাজিলের একটি ক্লাব ফুটবল দলকে বহনকারী একটি বিমান কলম্বিয়ায় বিধ্বস্ত হয়ে শীর্ষস্থানীয় ফুটবল ক্লাবটির অধিকাংশ খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা মারা গেছেন। বেঁচে গেছেন ডিফেন্ডার, দুই গোলকিপার ও ফিজিও। এবং সর্বশেষ আরো একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করার খবর পাওয়া গেলো।
সর্বশেষ খবরে কলম্বিয়া কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা ষষ্ঠ একজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন।
কলম্বিয়ার দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা বলেছে, ‘বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি খেলোয়াড় হেলিও হেরমিতো জামপিয়ের নেতোর উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাকে সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আরো কেউ বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নাকচ করা হয়নি।’
ভাড়া করা বিমানে দক্ষিণ আমেরিকার একটি ক্লাব ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলতে কলম্বিয়ার মেডেলিন শহরে যাচ্ছিল ব্রাজিলের অন্যতম প্রথম সারির ক্লাব শাপেকোয়েন্সে।
পুলিশ বলছে, বিমানটির যাত্রী ও নয় ক্রুসহ মোট ৮১ জনের মধ্যে ছয়জন বেঁচে গেছে।
মঙ্গলবার পুলিশ কমান্ডার জোসে গেরারদো আসেভেদো জানান, প্রাথমিকভাবে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু এদের একজন হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।
ক্লাবের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় অ্যালান রাচেল প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন খবরে বলা হচ্ছে, দলের দুই গোলকিপার ও ফিজিও বেঁচে গেছেন।
বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানে আগুন ধরে যায়নি বলেই কয়েকজন প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিমানটি ‘বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে’ কলম্বিয়ার মেডেলিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করার সময় বিধ্বস্ত হয়।
দক্ষিণ আমেরিকান ক্লাব ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ খেলার জন্য ব্রাজিলের সে দলটি বলিভিয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। কর্মকর্তারা বলছেন শহরের বাইরে একটি পার্বত্য এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্লাব ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলতে তারা মেডেলিন যাচিছল। তাদের প্রতিপক্ষ ছিল স্থানীয় ক্লাব অ্যাটলেটিকো ন্যাশনাল।
ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল বুধবার। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন দুর্ঘটনার পর সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।
ব্রাজিলে শাপেকো শহরে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ফুটবল ক্লাবটি ২০১৪ সালে ব্রাজিলের শীর্ষ ক্লাব টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইভান টোজো স্থানীয় এক টিভিতে বলেছেন, পুরো শাপেকো শহরে শোকের মাতম চলছে। ‘বহু মানুষ কান্নাকাটি করছে..তারা এটা কল্পনাও করতে পারেনি… শাপেকোয়েন্সে ছিল তাদের আনন্দ-উল্লাসের প্রধান উৎস।’
মধ্যরাতের দিকে এই বিমান দুর্ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি। পার্বত্য এলাকায় খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

 

মিতু/বিবি নিউজ/৩৮৫

Related posts

Leave a Comment