আজ জাতীয় যুবদিবস : রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

pm_sk_hasina_Preasident_ad._hamidডেস্ক রিপোর্ট: আজ পয়লা নভেম্বর জাতীয় যুবদিবস। এবছর জাতীয় যুবদিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আত্মকর্মী যুবশক্তি, টেকসই উন্নয়নের মূলভিত্তি’।

দিবসটি ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে। জাতীয় যুবদিবস ২০১৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান আগামীকাল ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. জাহিদ আহসান রাসেল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষিত যুব ও যুব মহিলাদের মধ্য হতে আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প স্থাপনে দৃষ্টান্তমূলক অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ১৪ জন যুব ও ৫ জন যুব সংগঠকসহ মোট ১৯ জনকে জাতীয় যুব পুরষ্কার প্রদান করা হবে।
জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট এডভোকেট আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃধক পৃথক বানী দিয়েছেন।

জাতীয় যুব দিবস-২০১৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান আগামী ১ নভেম্বর সকাল ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্র বিটিসিএল লাইনের মাধ্যমে ঢাকা-ক, ৬৯৩ কিলোহার্জ ও এফ. এম ১০৩.২ মেগাহার্জে সরাসরি সম্প্রচার করবে।

১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ‘জাতীয় যুব দিবস ২০১৬’ উপলক্ষে নি¤েœাক্ত বাণী প্রদান করেছেন:
“প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর ও ‘জাতীয় যুব দিবস-২০১৬’ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে আমি দেশের যুবসমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।
যুবরাই জাতির প্রাণশক্তি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান নিয়ামক। যুব সমাজের দৃপ্ত পদচারণায় বিশ্ব এগিয়ে চলেছে এবং অনাগত দিনগুলোতেও তা অব্যাহত থাকবে। যুবদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, অমিত তেজ ও সাহস, কর্মস্পৃহা ও কর্মক্ষমতা দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই যুবসমাজ যেকোনো দেশের অতিমূল্যবান জনশক্তি। বাংলাদেশের ইতিহাস যুবদের গৌরবময় অবদানে ভাস্বর। তাদের উদ্দীপনা ও সাহসিকতায় বাঙালি জাতি বিভিন্ন সঙ্কট উত্তরণে পেয়েছে দিশা। দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধনে তাই যুবসম্প্রদায়কে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক বৃহৎ অংশ যুবসমাজ, যা ক্রমশ বাড়ছে। আগামী ২০৪৩ সাল পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকবে। জনমিতিতে এ ধরণের সুযোগ একবারই আসে। এ জনমিতিক সুবিধা (উবসড়মৎধঢ়যরপ উরারফবহফ) কাজে লাগাতে আমাদের যুব সমাজকে পরিপূর্ণ দক্ষ করে তুলতে হবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়তে সরকার ‘রূপকল্প ২০২১’ ও ‘রূপকল্প ২০৪১ ’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির সার্থক বাস্তবায়নে যুবদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যুবদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে এ কর্মসূচির পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি আশা করি, সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে এবং যুবসমাজের সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ জনমিতিক সুবিধার সুফল অর্জনে সক্ষম হবে। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। জাতিগঠনে যুবসম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় যুব দিবস ২০১৬ এর প্রতিপাদ্য ‘আত্মকর্মী যুবশক্তি, টেকসই উন্নয়নের মূলভিত্তি’ সার্থক হয়ে উঠুক-এ প্রত্যাশা করি।
আমি ‘জাতীয় যুব দিবস-২০১৬’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করি।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

 

১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘জাতীয় যুব দিবস ২০১৬’ উপলক্ষে নি¤েœাক্ত বাণী প্রদান করেছেন :
“প্রতি বছরের মত এবারও ১ নভেম্বর ‘জাতীয় যুব দিবস ২০১৬’ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে আমি দেশের যুব সমাজকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
জাতীয় যুব দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আতœকর্মী যুবশক্তি, টেকসই উন্নয়নের মুলভিত্তি’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে, যা যুবসমাজের মধ্যে কর্মোদ্দীপনা সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ যুব। এরাই জাতির প্রাণশক্তি, দেশের মূল্যবান সম্পদ এবং দেশের মানুষের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলা সম্ভব।
আমাদের লক্ষ্য ডিজিটাল, জ্ঞানভিত্তিক এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। যুবসম্প্রদায় সে লক্ষ্য অর্জনে পুরোধাশক্তি। তাই যুবসমাজের সুস্থ বিকাশকে আমাদের সরকার সবসময়ই গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তাদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের অন্যতম হচ্ছে ‘ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি’। এ কর্মসূচির মাধ্যমে অস্থায়ী কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জাতির গঠনমূলক কর্মকান্ডে তাদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রুপান্তরের জন্য সরকার রূপকল্প ২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘ সূচিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ অর্জনেও আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে যুবদের অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
আমি আশা করি, দেশোন্নয়নে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব তারা সঠিকভাবে পালন করবে। দেশপ্রেম ও দেশের মানুষের প্রতি কর্তব্য ও মমত্ববোধ এবং উগ্রতামুক্ত ইতিবাচক মনোভাব তাদের মধ্যে সবসময় জাগ্রত থাকবে।
জাতীয় উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় যুবরা তাদের প্রতিভা ও প্রাণশক্তির পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্œের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করবে এ আমার প্রত্যাশা।

আমি ‘জাতীয় যুব দিবস ২০১৬’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

 

 

 

মিতু/বিবি নিউজ/১৪৮

Related posts

Leave a Comment