গাছ লাগান, নদী বাঁচান : ধরিত্রী দিবসে তথ্যমন্ত্রী

hasanur-hok-enuঅপরিকল্পিত নগরায়ন, মানুষের লোভ, ভূমিদস্যুতা ও জঙ্গি-আগুনসন্ত্রাসকে পরিবেশের মহাশত্রু হিসেবে বর্ণনা করে পরিবেশ বাঁচাতে বৃক্ষরোপণ ও নদীরক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি শুক্রবার বিশ্ব ধরিত্রী দিবসে রাজধানী ঢাকায় পরিবেশরক্ষায় কর্মরত সংগঠন নোঙর, গ্রিন বাংলা কোয়ালিশন ও গ্রিন স্টেপস আয়োজিত সমাবেশগুলোতে এ আহ্বান জানান।
জাতিসংঘ নির্ধারিত দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ধরিত্রীর জন্য বৃক্ষ’ এর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নোঙর ও গ্রিন বাংলা কোয়ালিশন আয়োজিত সমাবেশ ও মানববন্ধনে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘প্রতিজনে একটি গাছ লাগাতে হবে। গাছ যেমন পরিস্কার বায়ু, খাদ্য, রোজগার ও জ্বালানি দেয় তেমনি পরিবেশকে টেকসই করে, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে ও দারিদ্র্য কমাতে সাহায্য করে।’
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৃহত্তর সহযোগিতার প্রয়োজন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ বাঁচিয়ে বাংলাদেশকে সবুজ ও পরিস্কার করে তুলতে দেশীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক- তিন ধাপেই কাজ করতে হবে।’
এর আগে সকালে রাজধানীর আহসান মঞ্জিলে গ্রিন স্টেপস আয়োজিত সদরঘাট এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনকালে পবিত্র হাদিস উদ্ধৃত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নবী করিম (সা.) বলেছেন, কি শান্তিতে-কি যুদ্ধে কখনোই শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও পুরোহিত হত্যা করোনা এবং গাছ কেটো না। কিন্তু জঙ্গি-জামাত-আগুন সন্ত্রাসীরা তা মানে না। তাই এরা মানুষ, পরিবেশ, প্রকৃতি ও ধর্মের বড় শত্রু। ঐক্যবদ্ধভাবে এদের পরিবেশ নাশকতা দমন করতে হবে।’
গ্রিন স্টেপস সভাপতি জুবায়ের আহমেদের নের্তত্বে তরুণদের একটি দল সদরঘাটে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালায়।
প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে পরিবেশ সংগঠকদের মধ্যে নদী ও নিরাপত্তার সংগঠন-নোঙরের সভাপতি সুমন শামস, গ্রিন বাংলা কোয়ালিশনের আহবায়ক শামসুল মোমেন পলাশ, গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর অর্থনৈতিক বিভাগের পরিচালক তানিম লায়লা, গ্রিন সেভার্সের সভাপতি আহসান রনি, প্রখ্যাত ডুবুরি এস এম আতিক ও জলতল আলোকচিত্রী শরীফ সারোয়ার, বাউলশিল্পী সাঁই জুয়েল, বিশিষ্ট পরিবেশ কর্মীদের মধ্যে জালিয়া, শিশির প্রমুখ তাদের বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও নদী খননের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
আলোচকবৃন্দ নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিবেশ বাঁচাতে নদীরক্ষা, নদীর পুনঃখনন, নদী তীরে ও বাড়ির চারপাশে বৃক্ষরোপণ এবং ভবিষ্যতের পরিবর্তিত জলবায়ুতে মানুষের খাপ খাওয়ানো সহায়ক ‘অভিযোজন নীতি ও আইন’ প্রণয়নের দাবি জানান।

দিয়া ইসলাম / ১২০৪

Related posts

Leave a Comment