সাভারে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল এআই বিল্ডার্স কংগ্রেস বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত


ষ্টাফ রিপোর্টার,৭ অক্টোবর, ২০২৬ (বিবিনিউজ): যেখানে বিশ্বের এআই বিল্ডাররা তৈরি করে আগামীর প্রযুক্তি।” এই প্রতিপাদ্যে দেশে পপ্রথমবারের মত ,ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল এআই বিল্ডার্স কংগ্রেস ২০২৬’ ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের আয়োজনে এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মানের একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল এআই বিল্ডার্স কংগ্রেস ২০২৬’। এবারের কংগ্রেসের প্রতিপাদ্য “যেখানে বিশ্বের এআই বিল্ডাররা তৈরি করে আগামীর প্রযুক্তি।” আগামী ২৬ ডিসেম্বর ২০২৬ সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এই ইভেন্টে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। বর্তমানে রেজিস্ট্রেশন চলছে।
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রীন গার্ডেনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপ্িস্থত ছিলেন এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল এআই বিল্ডার্স কংগ্রেস ২০২৬’ এর বিস্তারিত তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আর কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে ্ভার্চূয়ালী যোগ দেন ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ মাহাদী উজ্জামান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিষ্ট্রার ড. নাদির বিন আলী। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ ফখরে হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অনুষদের সহযোগী ডিন অধ্যাপক ড. ফারনাজ নারীন নূর, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ই্িঞ্জনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শেখ রাশেদ হাযদার নূরী, কম্পিউটিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ডিপার্টমেন্টের প্রধান সারওয়ার হোসেন মোল্লা, স্টুডেন্ট এফেয়ার্সেও পরিচালক প্রফেসর ড. এবিএম কামাল পাশা, ক্লাউড ক্যাম্প বাংলাদেশ এর পরিচালক আরিফুল হাসান অপু ও সাধারন সম্পাদক শহীদ হোসেন প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কংগ্রেসটি কোনো সাধারণ হ্যাকাথন বা সম্মেলন নয় এটি একটি ছয় মাসব্যাপী বিল্ডার যাত্রা, যা শুরু হয়েছে জুলাই মাসে এবং শেষ হবে ২৬ ডিসেম্বর একদিনের গ্লোবাল শোকেসের মধ্য দিয়ে। এ আয়োজনের লক্ষ্য হলো ৫,০০০-এরও বেশি এআই বিল্ডারকে একই ছাদের নিচে সমবেত করা, যারা ১১টি গ্লোবাল ডোমেইন এবং ৫৫টি চ্যালেঞ্জ ট্র্যাক জুড়ে বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয় যে, প্রতিযোগিতা দুটি ভাগে বিভক্ত। অংশগ্রহণকারীরা দুটি প্রতিযোগিতার যেকোনো একটিতে অংশ নিতে পারবেন। প্রথমটি হলো টিম-বিল্ট প্রোডাক্ট কম্পিটিশন, যেখানে ৩ থেকে ৫ সদস্যের দলগুলো ছয় মাস ধরে একটি প্রোডাকশন-রেডি এআই প্রোডাক্ট তৈরি করবে।
দ্বিতীয়টি হলো এআই-নেটিভ সিঙ্গেল প্রম্পট অ্যাপ্লিকেশন বিল্ডিং চ্যাশেঢ় ও লঞ্জ, যেখানে নির্বাচিত ৫০০ জন প্রতিযোগী মাত্র একটি মাস্টার প্রম্পট ব্যবহার করে ইভেন্ট ডে-তে লাইভ এক ঘণ্টার মধ্যে একটি সম্পূর্ণ এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করবে।
এআই-নেটিভ সিঙ্গেল প্রম্পট চ্যালেঞ্জ: মাত্র একটি মাস্টার প্রম্পট থেকে একটি সম্পূর্ণ পাবলিক এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড অ্যাপ্লিকেশন ইকোসিস্টেম তৈরিই এই চ্যালেঞ্জের লক্ষ্য। নির্বাচিত প্রতিযোগীরা ইভেন্ট ডে-তে লাইভ এক ঘণ্টার মধ্যে সরাসরি বিল্ড করবেন- যা এআই-অ্যাসিস্টেড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াারিংয়ের ভবিষ্যতের একটি বাস্তব প্রদর্শনী।
অপরচুনিটি কানেক্ট- সারা বছরব্যাপী চলমান একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা রিক্রুটার, বিনিয়োগকারী এবং উচ্চশিক্ষা পরামর্শদাতাদের সঙ্গে প্রি-শিডিউলড ১:১ মিটিংয়ের সুযোগ পাবেন – চাকরি, ইন্টার্নশিপ, বিনিয়োগ ও বৃত্তির পথ উন্মুক্ত করবে।
মেন্টরিং ও গ্লোবাল এনআরবি কোলাবরেশন- প্রতিটি দলকে সহায়তা করবেন অভিজ্ঞ মেন্টররা – প্রজেক্টের দিকনির্দেশনা, আর্কিটেকচার রিভিউ এবং উপস্থাপনার প্রস্তুতিতে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের (এনআরবি) সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিটি দলে বৈশ্বিক মানের অভিজ্ঞতা যুক্ত হবে।
ফিজিক্যাল জাজিং- ইভেন্ট ডে-তে বিশেষজ্ঞ জাজিং প্যানেল প্রতিটি দলের প্রজেক্ট মূল্যায়ন করবে উদ্ভাবন, কারিগরি দক্ষতা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গ্লোবাল স্কেলেবিলিটি এবং রেসপন্সিবল এআই – এই পাঁচটি মানদন্ডের ভিত্তিতে।
বিজয়ীদের জন্য থাকছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার নগদ পুরস্কার, পাশাপাশি ট্রফি ও সম্মাননা, সার্টিফিকেট অব অ্যাচিভমেন্ট, এক্সক্লুসিভ পার্টনার বেনিফিট, মিডিয়া রিকগনিশন এবং গ্লোবাল শোকেস অপরচুনিটি।
ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের ফাউন্ডার অ্যান্ড চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহদী-উজ-জামান বলেন, “ইন্টারন্যাশনাল এআই বিল্ডার্স কংগ্রেস কোনো একদিনের আয়োজন নয় ,এটি ছয় মাসের একটি যাত্রা, যেখানে তরুণরা শেখে, তৈরি করে এবং নিজেদের গ্লোবাল বিল্ডার হিসেবে প্রমাণ করে। আমরা চাই বাংলাদেশ শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয় বরং বিশ্বমানের এআই বিল্ডারদের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে পরিচিত হোক। ১১টি ডোমেইন জুড়ে ৫,০০০-এরও বেশি বিল্ডারকে একত্র করার এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্যেরই একটি বড় পদক্ষেপ।”
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. আর. কবির বলেন, “ইন্টারন্যাশনাল এআই বিল্ডার্স কংগ্রেসের সহ-আয়োজক হতে পেরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি গর্বিত। এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়—দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মানের একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার একটি সুযোগ, যেখানে তারা সরাসরি বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। আমাদের ক্যাম্পাস এই আয়োজনের আতিথেয়তা করতে পেরে আনন্দিত, এবং আমরা বিশ্বাস করি ড্যাফোডিলের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।”
এ কংগ্রেসের কৌশলগত লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয় বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এআই-নেটিভ বিল্ডার, টিম এবং সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। আয়োজনটির প্লাটিনাম পার্টনার হিসেবে রয়েছে আনোয়াার গ্রুপ, সিলভার পার্টনার রোবাস্ট, ক্রিয়েটিভ পার্টনার সিনবর্ন, এবং টেকনোলজি পার্টনার হিসেবে রয়েছে এডব্লিউএস, লাভেবল, ক্যারিয়ার ক্যানভাস ও অ্যাস্ট্রোনাস টেক।

Related posts

Leave a Comment