পরীক্ষায় প্রস্তুতি নেওয়ার উপায়

ষ্টাফ রিপোর্টার:পরীক্ষার নাম শুনলেই সবাই কম বেশি আতংক গ্রস্থ হয়। কথায় আছে পরীক্ষা না থাকলে ছাত্র জীবন খুবই সুখের হতো। পরীক্ষা আছে বলেই সকল শিক্ষাথী পাশের জন্য, ভাল ফলাফলে জন্য মরণপণ চেষ্টা চালিয়ে যায়। পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের মাধ্যমেই নিজেকে সেরা হিসেবে প্রমান করতে চায়। পরীক্ষায় ভাল করার জন্য বিভিন্ন জন বিভিন্ন ধরণের কৌশল ব্যবহার করেন। পরীক্ষায় ভাল করার কয়েকটি কৌশল তুলে ধরা হলো। এই কৌশলগুলো মেনে চললে পরীক্ষার প্রস্তুতি আরো সহজ ও সাবলীল হবে।
১. পড়ার মাঝে বিরতি নেওয়া: একটানা দীর্ঘ সময় না পড়ে বিরতি দিয়ে পড়লে এ পড়া আরো বেশি ফলপ্রসু ও কার্যকর হবে। এক নাগাড়ে অনেক সময় পড়লে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। তাই প্রতি ২৫-৩০ মিনিট পড়ার পর ৫ মিনিট বিরতি দিতে হবে। এই বিরতি দেওয়ার ফলে মস্তিস্কের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং পড়া খুব সহজে আয়ত্ব করতে পারবে। বিরতির ৫ মিনিট সময়ে গল্প করা, খেলা করা, ব্যায়াম করা, টিভি দেখা, বিশ্রাম করা যেতে পারে।
২.রুটিন বানিয়ে পড়া: সময়ের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা করে পড়া বা রুটিন করে পড়া। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের পড়ার সময় নির্ধারণ করে বিষয়ের আলোকে ভাগ করে একটি রুটিন করতে হবে। প্রতিদিন সকল বিষয়ের পড়া নিশ্চিত করতে হবে।রুটিনে কঠিন বিষয় গুলোর জন্য বেশি সময় বরাদ্দ রাখতে হবে। প্রতিদিন রুটিন মোতাবেক পড়তে হবে। কোনদিন রুটিন মোতাবেক পড়তে অপারগ হলে পরের দিন বা ছুটির দিনে বাড়তি পড়া পড়ে রুটিনের পুর্বের পড়া আয়ত্ব করতে হবে।


৩.অতিরিক্ত রাত জাগা পরিহার করা: অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা এলেই গভীর রাত জেগে পড়ার অভ্যাস রয়েছে। অতিরিক্ত রাজ জেগে পড়লে মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায়না। ফলে অতিরিক্ত রাত জেগে পড়া পরিহার করতে হবে। মস্তিষ্কের পড়ার স্মৃতি তৈরির কাজটি ও ঘুমের মধ্যে হয়। পরীক্ষার আগের রাতে পরিমানমত ঘুম জরুরী। লরেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত রাত জাগা মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে। নর্থ টেক্সাসের আরেকটি গবেষণায় দেখা যায় অতিরিক্ত রাত জাগার ফলে চোখের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ে। তাই পরীক্ষার আগের রাতে বা নিয়মিত পরিমান মত ঘুমাতে হবে ও সকালে উঠে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

৪.ঘুমানোর আগে কঠিন পড়া পড়তে চেষ্টা করা:কঠিন বর্ণনা মুলক পড়া ঘুমানোর আগে পড়া উচিত। ফলে পড়াটি মস্তিষ্কে দীর্ঘ স্থায়ী হয়। ঘুম থেকে উঠার পর কঠিন বা বর্ণনা মূলক পড়াটি শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে থাকে।
৫.পরীক্ষার আগে রাতের জন্য পড়া জমিয়ে না রাখা: পরীক্ষার আগের রাতে সব পড়া একসাথে পড়তে চাইলে মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়বে। ফলে পরীক্ষার সময় বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে।সকল পড়া পরীক্ষার আগের রাতে না পড়ে অল্প অল্প করে প্রতিদিন রুটিন মোতাবেক পড়তে হবে। পরীক্ষার আগের রাতে সিলেবাসের সকল পড়া রিভিশন দিতে হবে।
৬.পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্য সম্মত খাবার গ্রহণ : শিক্ষার্থীর শারীরিক, মানসিক সুস্থতার জন্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্য সম্মত খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। খাবারের সাথে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে পরীক্ষার সময় আশমুক্ত ও চর্বিহীন খাবার গ্রহণ করা উচিত। কারণ এসব খাবার মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবারও পরিহার করা উচিত।
৭.নিজেকে যাচাই করা: পরীক্ষার পূর্বে অধ্যায় ভিত্তিক/কয়েকটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে সপ্তাহিক/পাক্ষিক/মাসিক ভিত্তিতে। নিজ নিজ বা শিক্ষকের সহায়তায় টেস্টে অংশ গ্রহণ করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে নিজেই প্রশ্ন করেনা দেখে উত্তর বলে/লিখে/পরীক্ষা করে দেখিয়ে/অংকনকরে/প্রদর্শন করে দেখা উচিত। নিজেই নিজের টেস্টে মার্কিং করতে হবে। এতে করে পড়া ভাল করে বোঝা যাবে ও আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে। এই আত্মবিশ্বাস পড়া মনে রাখতে ও পরীক্ষায় ভালফলাফল করতে সহায়তা করে। পরিবার ও বন্ধুদের পড়া ধরতে বলা যেতেপারে।
৮.নিজের উপর আস্থা রাখা: পরীক্ষায় ভাল করার জন্য নিজের উপর আস্থা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমার দ্বারা কিছুই হচ্ছে না, কিছুই হবে না তামন থেকে পরিহার করতে হবে। বার বার অনুশীলন করতে হবে। পরীক্ষার উত্তর পত্রে আত্নবিশ্বাসের সাথে লিখতে হবে। উত্তর লেখার পর ২/৩ বার রিভিশন দিতে হবে।
৯.প্রতি বিষয় প্রতিদিন পড়া ও লেখা : বিষয়ভিত্তিক রুটিন করে প্রতিটি বিষয় পড়া, পূর্বের লেখা পড়া রিভিশন দেয়া ও লিখা । শব্দ করে পড়তে হবে। গুরুত্ব পূর্ণ পয়েন্ট গুলো দাগ দিয়ে পড়া।
১০.গ্রুপ ষ্টাডি করে পড়া: যৌক্তিক, গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক বিষয়সমূহ দুই বা ততোধিক শিক্ষার্থী মিলে আলোচনা করে পড়লে সহজেই পড়া আয়ত্ব করা যায় এবং এই পড়াটি দীর্ঘ স্থায়ী হয়।

যে পরীক্ষায় যত বেশি নম্বর সেই বিষয়ে তত বেশি সময় ও গুরুত্ব দিতে হবে। পড়ার জন্য বিভিন্ন ধরণের যেমন বই, অডিওগাইড ও ভিডিও ব্যবহার করা যায়।

মো: তরিকুলইসলাম সেগুন, লেখক, শিক্ষা গবেষক ও ইন্সট্রাক্টর, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার, কালিয়াকৈর, গাজীপুর। মোবাইল নম্বর: ০১৭১২২১৩৭০৫। ইমেইল আইডি-segun52@gmail.com

Related posts

Leave a Comment