অনিয়ম, জালিয়াতি ও সন্ত্রাসদের সমালোচনা করলেও আপাতত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন থেকে সরে আসছে না বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) কতটা অযোগ্য, জনগণের সঙ্গে কতটা প্রতারণা করে এবং কতটা নিচে নামতে পারে তা দেখার জন্য ইউপি নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০ দল।
আজ (সোমবার) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে রাত সোয়া ৯টায় শুরু হওয়া জোটের বৈঠকে ২০ দলীয় জোটের শরীক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে গত দুই ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা এবং আগামী ধাপগুলোতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ‘আমরা গণতন্ত্রের স্বার্থে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, এ (তৃতীয় ধাপ) ধাপের নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছি। আমরা নির্বাচনে আছি, থাকব। পরবর্তী ধাপগুলোর বিষয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব।’
নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা বারবার প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে ৬ ভাগে ভাগ করায় সহিংসতা-অনিয়ম কম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুই ধাপ পার না হতেই ৪২ জন নিহত হয়েছে।’ এ নির্বাচন ব্যবস্থার মাধ্যমে আরো একবার সরকারের প্রতি জনগণ আস্থা হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।
বিএনপির এই সদ্য মনোনীত মহাসচিব বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসন ভাগাভাগির তামাশায় পরিণত হয়েছে। মৌলিক অধিকার চরম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আনন্দের উৎসব বিষাদে রুপ নিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদি চায় তাহলে এখনো সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব বলে বিশ্বাস করি। তবে নির্দলীয় সরকার ছাড়া সুষ্ঠুভাবে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব না বলে মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।’
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হত্যার আয়োজনে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণ নির্বাচনকে এখন ভয় পেতে শুরু করেছে। ইসি ইতোমধ্যে তাদের অযোগ্যতার সর্বোচ্চ পরিচয় দিয়েছে।’
২২ মার্চ প্রথম ধাপে নির্বাচন হয়েছে ৭৫২ ইউনিয়ন পরিষদে। ৩১ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে ভোট হয়েছে ৬৩৯টি ইউপিতে। ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপে, ৭ মে চতুর্থ ধাপে, ২৮ মে পঞ্চম ধাপে এবং ৪ জুন ষষ্ঠ ধাপে ভোট গ্রহণ করা হবে।#
