ষ্টাফ রিপোর্টার,২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বিবিনিউজ):অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকার-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প এর আশুলিয়া থেকে ধউর মোড় পর্যন্ত ২ লেন বিশিষ্ট প্রতিটি ৩.১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ২ টি সার্ভিস সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। আজ আশুলিয়ার ও ধউর এর মাঝামাঝি এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উপরে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

পরে যানচলাচলের জন্য এক্সপ্রেসওয়ে খুলে দেওয়া হয়।যানচলাচলের উম্মুক্ত করন সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে মন্ত্রী বলেন,দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরে আজ দেশের দীর্ঘতম উড়াল সড়ক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ খুলে দেওয়া হলো। বর্তমান সরকার ছয় মাসে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ অনেকদুর এগিয়ে নেওয়ায় আজ একাংশ খুলে দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছর এর পুরো কাজ শেষ হবে বলেও বলেন তিনি।

এসময় ঢাকা ১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু,ঢাকা ১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন,সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ এবং প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম (যুগ্ন সচিব) বক্তব্য রাখেন।এসময় দুই সংসদ সদস্য এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন হওয়ায় বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

তুরাগ নদের পানি প্রবাহ উন্মুক্ত রাখতে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটিও থাকছে না। যে কারণে টোল ছাড়াই সার্ভিস লেন দিয়ে পাড়ি দেয়া যাবে তুরাগ নদী উপর দিয়ে।।
প্রতিক্ষিত এই এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন হওয়ায় যানবাহন চালক ও স্থানীয়রা অনেক খুশি।
উল্লেখ্য, একনেকে অনুমোদনের ৫ বছর পর রাজধানী অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার আশুলিয়ায় হয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২০২২ সালের ১২ নভেম্বরে শুরু হয় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রাজধানীর দ্বিতীয় ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ। নানা জটিলতায় প্রকল্পটি খুড়িয়ে চলায় ভোগান্তির শেষ ছিল না এ অঞ্চলের মানুষের। শেষমেষ গতি পাওয়ায় জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭২ ভাগ।
দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৭,০৪৫.৬৭ কোটি টাকা।
সংশোধিত প্রকল্পে ড্রেনেজ, ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন ছাড়াও নতুন নকশায় বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও বাইপাইলে নির্মাণ করা হবে তৃতীয় তলা দৃষ্টিনন্দন ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ। তুরাগ নদের পানি প্রবাহ নির্বিঘœ করতে খুলে দেয়া হয়েছে আজ ২.৭২ কিলোমিটার সেতু।

ঢাকার উত্তরা, আবদুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, বাইপাইল ও আশুলিয়া এলাকার যানজট নিরসনে এটি এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। মূল এক্সপ্রেসওয়েতে টোল প্রযোজ্য থাকলেও, তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত সার্ভিস লেন সেতুটি ব্যবহার করে স্থানীয় ও সাধারণ যানবাহন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নদী পার হতে পারবে। সাভার-আশুলিয়া করিডোরের ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে আগে যেখানে ১-২ ঘণ্টা লাগত, এখন তা পার হওয়া যাবে মাত্র ১০-১২ মিনিটে।
৪৪ কিলোমিটারের সিগন্যালমুক্ত ম্যাজিক এই এক্সপ্রেসওয়েটি যখন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সাথে পুরোপুরি যুক্ত হবে, তখন সাভারের ঢাকা ইপিজেড থেকে শুরু করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৪ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দেওয়া যাবে সম্পূর্ণ সিগন্যাল ছাড়াই। এর ফলে ঢাকার সড়কে ৩০-৪০% ট্রাফিক চাপ কমে যাবে এবং উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের ৩০টিরও বেশি জেলার বাস-ট্রাক ঢাকার ভেতরের রাস্তা এড়িয়ে সরাসরি এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।

ঢাকার-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম (যুগ্ন সচিব)জানান, আজ থেকে মুলক সড়ক ও সার্ভিস লাইনের কিছু অংশে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলো এবং পরবর্তীতে কাজ পুরোপুরি শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ভাবে এর উদ্বোধন করবেন।
তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রায় ৫৪.১ শতাংশ বেড়ে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে পুরো প্রকল্পের চূড়ান্ত সুফল পেতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও, আজ মুল সড়কের একাংশসহ সার্ভিস লেন চালুর মাধ্যমেই এ অঞ্চলের মানুষ প্রথম ধাপে বড় স্বস্তি পেতে যাচ্ছে। এদিকে সাভার, নবীনগর ও আরিচাঘাট দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের দাবি, এক্সপ্রেসওয়ের সুফল পুরোপুরি পেতে বাইপাইল মোড় থেকে নবীনগর সড়কের সংযোগস্থলে ওঠানামার জন্য একই সাথে একটি বিকল্প র্যাম্প বা রাস্তা দ্রুত নির্মাণ করা হোক।
