উচ্চশিক্ষার গুণগত মানে কোনো আপস করা হবে না:পরিকল্পনামন্ত্রী

ষ্টাফ রিপোর্টার,২২ আগস্ট, ২০২৬ (বিবিনিউজ ) : বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণ ও গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকার সাভারের ব্র্যাক সিডিএম-এ শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের বিশেষ সংলাপ ‘ভাইস-চ্যান্সেলরস ডায়ালগ, শেপিং দ্য ফিউচার অব হায়ার এডুকেশন’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষা খাতের ইতিহাসে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান সরকার তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর উদ্যোগে এবং ইউজিসি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এই সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। এতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬৫ জন উপাচার্য, নীতিনির্ধারক, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ এবং ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।


সংলাপের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, “বাংলাদেশ শিক্ষা ক্ষেত্রে আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে, সেখান থেকে আমরা এখন আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের কথা ভাবছি। সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রথাগত ধারা থেকে বের করে এনে সত্যিকার অর্থে বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষায় (রিয়েল লাইফ এডুকেশন) রূপান্তর করতে চাই। দেশ ও দেশের বাইরে মানসম্মত ও চাহিদভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের শিক্ষার্থীদের এমন জায়গায় পৌঁছাতে হবে, যাতে পড়াশোনা শেষ করে তারা সহজেই ক্রেডিট ট্রান্সফার করতে পারে। একটি মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সবচেয়ে বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।”


সংলাপ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা বর্তমানে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন (বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ), শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদা, গুণগত মান ও জবাবদিহির ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মতো নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। এ প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষায় কৌশলগত নেতৃত্ব ও সুশাসন, মানসম্মত পাঠদান ও মূল্যায়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাত সহযোগিতা এবং ডিজিটাল রূপান্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও উদ্ভাবনী, জবাবদিহিমূলক, সুশাসিত এবং পরিবর্তিত বিশ্বের উপযোগী দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই আয়োজনে।


এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন,যে সকল সমস্যা বের হয়ে আসছে বা দাবী করা হয়েছে তা সরকার ধাপে ধাপে বাস্থবায়ন করবেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাবিদদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা আগামী দিনের উচ্চশিক্ষার অগ্রযাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

Related posts

Leave a Comment