সাভারে বিএলআরআই-এ গবেষণার নিবিড় পর্যবেক্ষণে আলোচিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে সাদা মহিষ

শেখ বাশার ,সাভার,২৫ জুন-২০২৬(বিবিনিউজ):দেশ-বিদেশে আলোচনার জন্ম দেওয়া সেই আলোচিত ‘অ্যালবিনো’ বা ধবল মহিষটি এখন সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই)। উন্নততর সুরক্ষা, নিবিড় পরিচর্যা এবং জাত উন্নয়নের গবেষণার লক্ষ্যে সেটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে বিএলআরআই-এ স্থানান্তর করা হয়েছে। সাদা মহিষ বর্তমানে সুস্থ আছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাড়া বাকীদের সাদা মহিষের কাছে প্রবেশ নিষেধ । বিরল প্রজাতির সাদা মহিষটিকে ১৪দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে ।


নিজের অবয়ব আর বিশেষ গঠনশৈলীর কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া এই মহিষটিকে ঘিরে বিতর্ক কম হয়নি। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই বিরল প্রজাতির ধবল মহিষটিকে এখন সাভারের বিএলআরআই-এর প্রাকৃতিক ও নিরাপদ পরিবেশে রাখা হয়েছে।
বিএলআরআইয়ে মহাপরিচালক ডক্টর শাকিলা ফারুক বলেন, এখন এ ব্যাপারে অনক্যামেরায় কোন কথা বলা নিষেধ- তবে সাদা মহিষটি ভাল আছে এবং কোয়ারেন্টিন শেষে এ বিষয়ে কথা হবে।
গত ২১ জুন রাতে ঢাকা জাতীয় চিড়িয়া খানা থেকে মহিষটিকে এখানে আনা হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও গবেষণার জন্য ১৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বিএরআইয়ের মহিষ গবেষণা ও উৎপাদন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. গৌতম কুমার দেবের নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করছে।


বিএলআরআই কর্তৃপক্ষ জানান, বর্তমানে মহিষটিকে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তীতে আরো ৭দিন বাড়তে পাবে। এ সময় প্রাণীটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডায়েট চার্ট নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কোয়ারেন্টিন শেষে মহিষটির জিনগত বৈশিষ্ট্য, প্রজনন সক্ষমতা ও উৎপাদন সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হবে বিস্তারিত গবেষণা। ভবিষ্যতে প্রজনন কার্যক্রমের মাধ্যমে এই বিরল জাতের মহিষের বংশবিস্তার ঘটানোই কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য।
গত ১৬ জুন বিএলআরআই-এর এক কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রীর সামনে মহিষটির বর্তমান পরিস্থিতি ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। সম্ভাবত মন্ত্রীর নির্দেশের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে মহিষটিকে স্থানান্তর করা হলো। এর আগে, চিড়িয়াখানায় মহিষটির নামকরণের ফলক নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।
মহিষটিকে ঘিরে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি এই গবেষণার সাফল্য যেন দ্রুত সাধারণ খামারিদের কাছে পৌঁছায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মহিষটির প্রজনন ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত সমৃদ্ধ করা সম্ভব।
মহিষটি এখন গবেষণাধীন এবং অতিসংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। তাই প্রাণিটির সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা মেনে চলতে এবং কোনো ধরনের গুঞ্জন বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে দর্শকদের অনুরোধ করা যাচ্ছে। গবেষণার মাধ্যমে প্রাণীটি সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে এবং সঠিক পরিচর্যায় বিরল এই প্রজাতির মহিষ আমাদের সম্পদের তালিকায় যুক্ত হবে বলে মনে করেন সাধারন মানুষ।

Related posts

Leave a Comment