জাবিতে সবার দৃষ্টি কেড়েছে প্রজাপতি গার্ডেন


স্টাফ রিপোর্টার,২১ সেপ্টেম্বর,২০২২(বিবিনিউজ):ঢাকার অদূরে সাভারে প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাকায় রয়েছে নানা জীববৈচিত্র্য। তবে সবকিছু ছাপিয়ে সম্প্রতি সবার দৃষ্টি কেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজাপতি গার্ডেন। প্রজাপতি গার্ডেন মূলত হরেক নাম আর রঙের প্রজাপতির এক পরিকল্পিত আবাস। সেখানে প্রজাপতিদের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা ঘর আর প্রজননকেন্দ্র। এখানে প্রজাপতিদের কেউ বিরক্ত করে না, তারা আপন মনে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়, মধু খায়। সকাল, দুপুর, সাঁঝে তারা পাখা মেলে। আকাশে ছড়ায় রঙ।
জাহাঙ্গীরনগরের সবুজ ক্যাম্পাস হয়ে উঠেছে প্রজাপতির অভয়ারণ্য। সবুজ বনানী, নরম ঘাসের ডগায় দিনভর চলে তাদের ওড়াউড়ি। সুয্যিমামা জাগার আগেই ঘুম ভাঙে তাদের। শুরু হয় আরও একটি দিনের। শরতের সকালের শিশির ভেজা শান্ত পরিবেশে একটু এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি, তারপর খাদ্য সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়া।
প্রকৃতি রোদের ছোঁয়ায় তেতে ওঠার আগেই খাদ্য সংগ্রহ করা চাই। এজন্য ছুটতে হয় এ ডাল থেকে ও ডালে। এক বন থেকে অন্য বনে। চলে মধু সংগ্রহের প্রতিযোগিতা। বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল বর্ণের বৈচিত্র্যময় ডানায় ভর করে তারা ছুটে চলে। রঙের জাদুতে মোহিত করে দর্শককে। দেখে ভ্রম হয়, প্রজাপতি, প্রজাপতি, কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা।
প্রজাপতির বাগানের প্রজাপতিদের রঙের বাহার যেমন, তেমই নামের বাহার। টাইগার গ্রুপ, শ্যালো টেল, গ্রাস ইয়েলো, ইয়েলো পেনসি, লাইম বাটার ফ্লাই আরও কত কি! আমাদের দেশের মোট দু’শ জাতের প্রজাপতির ১১০ প্রজাতিই রয়েছে এখানে। আর এর মধ্যে আবার ৬১টি প্রজাতি নতুন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩শ’ একর জমির ওপর এই প্রজাপতি বাগান। জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন ১৪ বছরের সাধনায় গড়ে তুলেছেন প্রজাপতিদের এই আবাস। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যলয়ের বনবনানী আর জীববৈচিত্র্যের কারণে তা সম্ভব হয়েছে। আর প্রজাপতিরাও আপন করে নিয়েছে বাগানটিকে।
প্রজাপতির বাগানে প্রজাপতিদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী রয়েছে আলাদা আলাদা ঘর। ঘর মানে বাঁশঝাড়, ফুলবাগান ঝোপজঙ্গল, নাগেশ্বর গাছের সারি, ঘাসের মাঠ এসবই বাটারফ্লাই হাউজ। কখনও কখনও তাদের দেখতে এগিয়ে যেতে হয় সতর্ক পায়ে, সজাগ দৃষ্টিতে।
প্রজাপতি গার্ডেনে যেমন প্রজাপতির প্রাকৃতিক প্রজনন হয়, তেমনি প্রাণিবিদ্যা বিভাগে মনোয়ার হোসেন গড়ে তুলেছেন কৃত্রিম প্রজননকেন্দ্র। সেই কেন্দ্রে জম্ম নেয়া প্রজাপতিও ছেড়ে দেয়া হয় বাগানে। এ পর্যন্ত দুটি প্রজাতির শতাধিক প্রজাপতির জম্ম হয়েছে প্রজননকেন্দ্রে। আর তা রক্ষা করছে বিলুপ্তপ্রায় অনেক প্রজাতিকে।
১৯৯৬ সালে ড. ইসমাঈল চৌধুরী, ড. শফিক হায়দার ও সহযোগী অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন গবেষণা চালিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫১ প্রজাতির প্রজাপতির সন্ধান পান, যেগুলোর মধ্যে নতুন প্রজাতি ২১টি। ড. মনোয়ারের তত্ত্বাবধানে ছাত্র এমএ রাজ্জাক গবেষণা করে আরও ৩৯ প্রজাতির প্রজাপতি চিহ্নিত করেন ২০০৩ সালে, যার মধ্যে নতুন প্রজাতি ৩৬টি। সর্বশেষ ২০১০ সালে আরও চারটি নতুন প্রজাপতি শনাক্ত করেন ড. মনোয়ার। বিশ্ববিদ্যলয়ের বিশমাইল, বোটানিক্যাল গার্ডেন, হলের বাগান, রেজিস্ট্রার ভবন, সুইমিংপুল উদ্যান প্রভৃতি স্থানে গবেষণার মাধ্যমে এগুলোর সন্ধান পাওয়া গেছে।

Related posts

Leave a Comment