দেশে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ যক্ষ্মায় মারা যাচ্ছেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২৪ আগস্ট ২০২২(বিবিনিইজ):স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে প্রতিবছর যক্ষ্মায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। সে হিসাবে দিনে শতাধিক মানুষ যক্ষ্মায় মারা যাচ্ছেন। পরিস্থিতির উন্নয়নে চিকিৎসার আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটির ভূমিকা, মানুষের অধিকার ও লিঙ্গবৈষম্য দূর করা’ নিয়ে এক আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বলা হয়, দেশে প্রতিবছর তিন লাখের বেশি মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছেন। যক্ষ্মায় মৃত্যু ও সংক্রমণ কমাতে হলে চিকিৎসা ও সেবার ক্ষেত্রে যেসব বৈষম্য আছে, তা দূর করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদ মালেক বলেন, প্রতিবছর দেশে যক্ষ্মায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। অর্থাৎ দিনে শতাধিক মানুষ মারা যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সরকারের সাফল্য আছে। তবে এখনো বহু মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন। এখন যক্ষ্মার চিকিৎসা ও আওতা আরও বাড়াতে হবে। যক্ষ্মার বিষয়ে মানুষের মধ্যে যে কুসংস্কার আছে, তা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে অর্থায়ন বাড়াতে হবে। যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে সম্ভব নয়। অন্য মন্ত্রণালয়গুলোকেও এর সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী প্রতিবছর দেশে ৩ লাখ ৬০ হাজারের মতো মানুষ যক্ষ্মায় নতুন করে আক্রান্ত হন। তবে এর মধ্যে ১৫ শতাংশ মানুষকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। তাঁরা রোগ ছড়াচ্ছেন। তাঁদের শনাক্ত করা জরুরি। যক্ষ্মার ওষুধ আগে বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো বা বিদেশ থেকে কেনা হতো। এখন এই ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। সরকার দেশি কোম্পানিগুলো থেকে যক্ষ্মার ওষুধ কিনছে এবং বিনা মূল্যে তা রোগীদের দিচ্ছে। দেশে যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত, সব ধরনের পরীক্ষা, চিকিৎসা—পুরোটাই বিনা মূল্যে হয়।

আয়োজকেরা বলেন, কিছু ক্ষেত্রে এ কর্মসূচি পিছিয়ে আছে। যেমন যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে এখনো সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করা যায়নি। এ ছাড়া যক্ষ্মা রোগীরা তাঁদের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন নন। নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত এবং চিকিৎসাসেবায় কিছু পার্থক্য দেখা যায়।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান বলেন, কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করা গেলে, মানুষকে তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে পারলে এবং নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করা গেলে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। এতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন ডব্লিউএইচও এবং গ্লোবাল ফান্ডের প্রতিনিধি।

Related posts

Leave a Comment