১৩ এপ্রিল ২০২২(বিবিনিউজ ) :পেনশন থেকে মাইলেজ ভাতা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন রানিং স্টাফরা। আজ বুধবার ভোর থেকে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছেন চালকেরা। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সারা দেশে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভোর থেকে শত শত মানুষ অপেক্ষা করছেন। হঠাৎ ট্রেন চলাচল বন্ধে বিপাকে সাধারণ মানুষ ও অফিসগামী যাত্রীরা।
রানিং স্টাফ বলতে ট্রেনের চালক, সহকারী চালক, গার্ড ও টিকিট পরিদর্শকদের (টিটি) বোঝানো হয়।
ট্রেনচালক, সহকারী চালক, গার্ড ও টিটিরা ১৬০ বছর ধরে মাইলেজ সুবিধা পাচ্ছিলেন। অর্থাৎ দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি কাজ করলে বেসিকের হিসেবে বাড়তি অর্থ পেতেন। এ ছাড়া অবসরের পর বেসিকের সঙ্গে এর ৭৫ শতাংশ অর্থ যোগ করে অবসরকালীন অর্থের হিসাব হতো। গত বছরের ৩ নভেম্বর এসব সুবিধা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
এর পর থেকে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি। তবে গত ৩০ জানুয়ারি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মসূচি স্থগিত করেন তাঁরা। তবে ১০ এপ্রিল অর্থ বিভাগের এক আদেশে, রেলওয়ের রানিং স্টাফদের মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন ও আনুতোষিক প্রদানের প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়া হয়। এরপর হঠাৎ আজ ভোর থেকে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন তাঁরা।
বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান বলেন, অর্থ বিভাগ তাঁদের দাবি খারিজ করে দেওয়ায় সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছেন। ১৬০ বছর ধরে মাইলেজ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এটা তো দাবি নয়, তাঁদের অধিকার। অধিকার খর্ব করলে তো আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই। রেল মন্ত্রণালয় তাঁদের দাবি মানার আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানেনি।
এদিকে বিষয়টির সমাধানে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গেছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রামেও ট্রেন চলাচল বন্ধ
সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছেন লোকোমাস্টাররা। বুধবার সকালে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছয়টি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সকাল ১০টা পর্যন্ত একটি ট্রেনও ছেড়ে যায়নি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
এদিকে হঠাৎ ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্টেশনে আসা লোকজন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বলেন, তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহ। বাড়িতে যাওয়ার জন্য সকালে ক্যাম্পাস থেকে স্টেশনে এসেছেন। এসে শোনেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ। এখন অপেক্ষা করছেন। যদি ট্রেন না চলে, তাহলে বাসে করে যাবেন। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ বলেন, হুট করে এভাবে ট্রেন বন্ধ করায় খুব বিপাকে পড়েছেন তিনি।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক রতন কুমার চৌধুরী বলেন, রেলের রানিং স্টাফরা কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা না দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছেন। তিনিও বিষয়টি জানতেন না। রানিং স্টাফদের এ কর্মসূচির কারণে সকাল ১০টা পর্যন্ত ৬টি ট্রেনের ১টিও গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। তিনি জানান, সকালে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ঢাকাগামী তিনটি, ময়মনসিংহগামী একটি, চাঁদপুরগামী একটি ও সিলেটগামী একটি ট্রেন ছিল।
