জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মইনুদ্দিনকে সভাপতির পদ থেকে অপসারণ এবং তাকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতির দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছে বিভাগটির শিক্ষা কার্যক্রম। দাবি আদায়ে গত ১৬ দিন ১ ঘন্টা করে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
গত বছর ব্যবহারিক ক্লাস চলাকালে এক শিক্ষার্থীকে লাথি মারার অভিযোগ ওঠে অধ্যাপক গোলাম মইনুদ্দিন চিশতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত বছরের ৪ এপ্রিল ওই শিক্ষকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে উপাচার্যকে চিঠি দেয় শিক্ষার্থীরা। পরে ২০ এপ্রিল ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের প্রতিকার এবং একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর তদন্ত কমিটির সুপারিশক্রমে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে আবারও বিভাগটির সভাপতির পদে পুনর্বহাল করা হয় অধ্যাপক গোলাম মইনুদ্দিন চিশতিকে। গত ২৩ মার্চ তিনি সভাপতি পদে যোগদান করে কার্যক্রম শুরু করেন। এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গত ২৭ মার্চ উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয়। অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বন্ধ করে প্রায় ১৬ দিনে ১ ঘন্টা করে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানায়, অধ্যাপক গোলাম মইনুদ্দিনের কর্মকান্ডে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল তার প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে তাদের প্রতি নিপীড়নের বিচার দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কোনো ধরনের বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই তাকে সভাপতি পদে বহাল রাখা হয়। এমন অবস্থায় গোলাম মইনুদ্দিনের অধীনে কোনো ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা অপারগতা জানিয়ে নিপীড়নের বিচার দাবি করে। একই ধরনের আরেকটি স্মারকলিপিতে বিভাগীয় শিক্ষকরাও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার কথা জানান।
আগামী শনিবার জরুরী সিন্ডিকেট করে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে জানালেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন।
বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মইনুদ্দিন চিশতি মুঠো ফোনে সিএনআই নিউজকে জানান তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট আমাকে দায়িত্বে বহাল রেখেছে। আমি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সবার উচিত সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে একই ইস্যুতে (যেটিতে আমি নির্দোষ প্রমাণিত) আন্দোলনে যাওয়া দুঃখজনক।
নগর অঞ্চল বিভাগের প্রফেসার আক্তার মাহামুদ জানান প্রায় ১১ মাস পর প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত আমাদের হতবাক করেছে। তাকে অপসারণ করা না হলে আমরা ক্লাসে ফিরব না।
দিয়া ইসলাম / ৭১০
