ষ্টাফ রিপোর্টার,১৮ আগস্ট, ২০২৬ (বিবিনিউজ) : ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার-হেমায়েতপুর অংশের ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় দীর্ঘদিনের ময়লার ভাগাড় অপসারণ, দুর্গন্ধমুক্তকরণ এবং সড়কের দুপাশে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে এ পথে চলাচলকারী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে এলাকাটিকে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশ বান্ধব করে তোলার এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এবং ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম সরেজমিনে মহাসড়কের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির সময় ক্ষমতা গ্রহণ করেছে এবং বিগত সময়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এই সৌন্দর্যবর্ধিত সড়কের উদ্বোধন করবেন বলেও জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নে মহাসড়কের পাশে থাকা ময়লার ভাগাড়ের নির্দিষ্ট স্থানে বালি ও মাটি ফেলে জমি প্রস্তুত করা হয়েছে। এরপর সেখানে নারিকেল, সুপারি ও নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাটি ধরে রাখতে বিশেষ ধরনের ঘাস লাগানো হয়েছে এবং অননুমোদিত ভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে মহাসড়কের পাশে মজবুত নেটের বেড়া দেওয়া হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে সৌন্দর্যবর্ধন কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর এখানে দুটি উইন্ডমিল স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উইন্ডমিল থেকে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের বাতি জ্বালানো হবে।
চলতি বছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর জন্য ৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট ধরা হয়েছে। এছাড়া আমিনবাজার ও আশুলিয়া পৌরসভা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “আমরা এখানে ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করেছি। নির্ধারিত ল্যান্ডফিলের বাইরে মহাসড়কে কেউ ময়লা ফেললে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিদর্শনকালে অন্যান্যদের মধ্যে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিনের ময়লার ভাগাড় ও দুর্গন্ধের অভিশাপ কাটিয়ে সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি এখন একটি পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন সড়কে রূপ নিতে চলেছে।
