৫ জুলাই, ২০২৫(বিবিনিউজ): সংসার মানেই ভালোবাসা, যত্ন আর বোঝাপড়ার এক চমৎকার জগৎ। সেখানে একজন স্ত্রী শুধু একজন সঙ্গীই নন- তিনি হয়ে ওঠেন পরিবারের প্রাণ, সন্তানদের অভিভাবক এবং স্বামীর পরম যযত্নশীল একজন সাথি। সংসারে একজন স্ত্রী নিজেকে বিলিয়ে দেয়। তেমনি এক গল্প ৩৫ বছর বয়সী নারী উম্মে সাহেদীনা টুনির । যিনি নিজের কিডনি দিয়ে স্বামীর জীবন বাঁচিয়ে ছিলেন। তবে সেই স্বামী সুস্থ হয়ে উল্টা পরকীয়া ও অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়লেন । শুধু তা-ই নয়, বরং স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে তিনি বসবাস করছেন ।
ঢাকার সাভারের কলমা এলাকায় এমন অমানবিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে। অকৃতজ্ঞ স্বামী তারেকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেছেন টুনি। তারেক গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে জামিনে আছেন।
বিয়ের দুই বছরের মাথায় দুঃসংবাদ পান টুনি। টুনি জানতে পারেন- তার স্বামী মোহাম্মদ তারেকের দুটি কিডনি প্রায় অচল। তাকে বাঁচাতে নিয়মিত ডায়ালাইসিস ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। অথচ এর মাত্র এক বছর আগে সন্তানের মা হয়েছেন টুনি, সংসার জীবনেরও সবে দুই বছর পার হয়েছে। এমন সময়ে এই দুঃসংবাদ তার জীবনের সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেয়। তবে, ভালোবাসার বাঁধন বড়ই শক্ত। টুনি স্বামীর হাত শক্ত করে ধরেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেককে ভারতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিকল্পনামাফিক তারেকের চিকিৎসা শুরু হয় ভারতে। কয়েক বছর পর চিকিৎসকরা জানান, রোগীকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। তখন স্ত্রী টুনিই এগিয়ে আসেন। নিজের কিডনি দিয়ে তিনি স্বামীকে প্রাণে বাঁচান। টুনি ভেবেছিলেন, এবার হয়তো তার কষ্টের জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে। কিন্তু তারেকের এমন কর্মকান্ড বিষয়টিকে ভুল প্রমাণ করেছে। সুস্থ হয়েই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তারেক । ডিভোর্সি এক নারীর প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার নেশাও পেয়ে বসে তাকে।
যেই স্ত্রীর কারণে নতুন জীবন তিনি ফিরে পেলেন, একসময় তাকেই মারধর করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মারধর করে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে গিয়ে ওঠেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে পারিবারিক ভাবে কলেজে পড়–য়া তরুণী উম্মে সাহেদীনা টুনির সঙ্গে মালয়েশিয়া প্রবাসী তারেকের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পরই তারেক ও টুনির সংসারে আলো করে একটি পুত্রসন্তান আসে। ছেলের নাম রাখা হয় আজমাইন দিব্য। ঘটনা এলাকায় চ্যাঞ্চের সৃষ্টি করেছে।
