কিউকমের সিইও গ্রেপ্তার


৪ অক্টোবর ২০২১ (বিবিনিউজ ):কিউকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। পল্টন থানায় রিপনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রতারণা মামলা রয়েছে। সেই সূত্রে তাঁকে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাজারমূল্যের চেয়ে কমে পণ্য দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের ধোঁকা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশ জানাচ্ছে, কিউকম প্রায় লক্ষাধিক পণ্য অনলাইনে বিক্রি করত। ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার জন্য কিউকম ‘বিজয় আওয়ার’ ‘স্বাধীনতা আওয়ার’ ‘বিগ বিলিয়ন’ নামে দুই থেকে ১৫ দিন সময় দিয়ে ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার মোটরসাইকেল ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল। কিন্তু সময়মতো কিউকম পণ্য সরবরাহ করতে পারছিলেন না। এ সময় বেশ কিছু ক্রেতা হতাশ হয়ে কিউকমে যোগাযোগ করে। কিউকম সেই সময় লাভে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে লাভের অংশ হিসেবে কোনো কোনো ক্রেতাকে চেক দিতে শুরু করে।

এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেছেন, এই মুহূর্ত কিউকমের ৩৯৭ কোটি টাকা তৃতীয় পক্ষের কাছে জমা আছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিপন জানিয়েছেন।

হাফিজ আক্তার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গত জুন মাসে এসক্রো সিস্টেম চালু করেছে। এই পদ্ধতিতে ক্রেতার টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত পেমেন্ট গেটওয়ের কাছে জমা থাকে। কিউকমের পে-মেন্ট গেটওয়ে ছিল ফস্টার।

এই পদ্ধতিতে কিউকম ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছে দিয়ে চালানসহ ডকুমেন্ট ফস্টারে জমা দিচ্ছিল। পণ্য বুঝে পাওয়ার পর ক্রেতা কিউকমকে টাকা দিত। ক্রেতা পণ্য বুঝে না পেলে ফস্টার কর্তৃপক্ষ কিউকমের টাকা আটকে দেয়। এতে ক্রেতা পণ্য বা টাকা কোনোটিই পায়নি।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেছেন, জমা টাকা থেকে কিউকমের গ্রাহকেরা টাকা ফেরত পেতে পারেন। তবে এর বাইরেও মোটরসাইকেল দেওয়ার কথা বলে কিউকম ২৫০ কোটি টাকা মেরে দিয়েছে বলে রিপন জানিয়েছেন।

ই-কমার্স ব্যবসার নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কিউকম সিইওকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. রিপন মিয়া।

ডিবি জানিয়েছে কিউকমের সিইও গ্রেপ্তারের পর ভুক্তভোগীদের অনেকেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেছেন সৌরভ দে। মামলার এজাহারে তিনিসহ ১৫ জনের নাম ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিউকম থেকে তাঁদের পাওনার পরিমাণ তিন কোটি ৩০ লাখ ৩৯ টাকা।

Related posts

Leave a Comment