ডেস্ক রিপোর্টার: রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা দেশের অকল্যাণ করে তারা যেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘রাজাকার, আলবদর, যুদ্ধাপরাধী, অর্থ পাচারকারী এবং এতিমের টাকা আত্মস্যাৎকারীরা কোনভাবেই যেন আবার ক্ষমতায় আসতে না পারে, এজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। …তারা ক্ষমতায় এলে আবারো এসব অপকর্ম ঘটাবে।’এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দল আর কাউকেই এদেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেবে না। পূণরায় আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবণের লনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত সংবর্ধনায় শেখ হাসিনা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বক্তৃতা করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি মাহবুবুল হক শাকিল উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যে বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন তা ইউএস ফেডারেল কোর্ট এবং সিঙ্গাপুরের আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা যে অর্থ পাচার করেছেন সেটা আমার কথা নয়, এটি ইউএস ফেডারেল কোর্ট এবং সিঙ্গাপুরের আদালতে প্রমাণিত হয়েছে…যার কিছু টাকা আমরা ফিরিয়ে আনতেও সক্ষম হয়েছি। কিন্তু পুরো টাকা ফেরত আনতে পারিনি।’ গত সাধারণ নির্বাচনের আগে ও পরে এবং ২০১৫ সালের বিএনপি-জামায়াতের সীমাহীন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা বহু মানুষকে সে সময় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, স্কুলগামী ছাত্রী, অন্তঃসত্ত্বা নারী, বাস এবং সিএনজি অটোরিক্সা চালক-কেউই তাদের সন্ত্রাসের হাত থেকে রেহাই পায়নি।আন্দোলনের নামে খালেদা জিয়া নিজেই নিজেকে তার গুলশান কার্যালয়ে আবদ্ধ রাখেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি প্রধান সে সময় ৯২দিন তার কার্যালয়ে অবস্থান করে বিরিয়ানি খেয়েছেন আর তার ক্যাডারবাহিনী সন্ত্রাসী হামলা করে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, তাদের সেই মানুষ পুড়িয়ে হত্যার আন্দোলনে কেউ সাড়া দেয়নি। দেশের জনগণ কখনই মানুষ পুড়িয়ে হত্যাকারি এবং এতিমের টাকা মেরে খাওয়া লোকজনের কথা শুনবে না। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য প্রতিরোধে এগিয়ে আসায় তাঁর দল ও সহযোগী সংগঠন এবং ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ জনগণকে ধন্যবাদ জানান। ‘সরকার উৎখাত না করে ঘরে ফিরবো না’- বিএনপি কার্যালয়ে অবস্থানকালীন বেগম জিয়ার সেই সময়কার এই উক্তির উদ্বৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘অত:পর খালেদা জিয়া নাকে খৎ দিয়ে তার বাড়িতেও ফেরেন এবং আদালতেও (বকশী বাজারে) উপস্থিত হতে বাধ্য হন।…আন্দোলন করতে নেমে এভাবে পর্যুদস্থ হবার পর তাদের মুখে আর বড় বড় কথা শোভা পায় না।’ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দেশপ্রেমিক এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, তা ভুলে গেলে চলবে না।’ তিনি ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিলাসবহুল জীবন যাপনে অভ্যস্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘যদি সব সময় উপরের দিকেই দৃষ্টি থাকে তাহলে চরিত্রের দৃঢ়তা এবং সততা থাকে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব সময় মনে করবে তোমরা কি করেছো সেটা বড় কথা নয়, বরং কি করতে পারনি…সব সময় মনে করবে দেশকে দেশের মানুষকে কতটুকু কি দিতে পেরেছ।’ প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের লেখাপড়ার প্রতি আরো মনযোগী হবার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘কোন অশিক্ষিত ব্যক্তি যদি দেশের ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশের কি হাল হতে পারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে অশিক্ষিতের মাঝে শিক্ষার আলো বিস্তারে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি আর কোন ছেলে-মেয়েই যেন ভুল করে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এবং মাদকাসক্তির পথে পা না বাড়ায় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখার আহবান জানান।
দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোন স্থান হবে না- এ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক, শিক্ষক এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের জনগণকে তাঁর সরকারের সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযানে সামিল হবার আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপথগামীদের বোঝাতে হবে যে, ইসলাম শান্তির ধর্ম। নিরপরাধ, সাধারণ মানুষকে হত্যা করে কখনও বেহেশতে যাওয়া যায় না। আগামী প্রজন্মকে আধুনিক জ্ঞান এবং প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত করে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এজন্যই তাঁর সরকার শিক্ষাখাতের উন্নয়নকে সর্বাাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলায় তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা তা পারবো।
প্রধানমন্ত্রী দেশের হতদরিদ্রদের পুনর্বাসনে তাঁর সরকার নির্দেশিত স্ব-স্ব এলাকার হত দরিদ্রদের তালিকা প্রস্তুতিতেও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। এদিন বৃষ্টির মধ্যেও লনে দাঁড়িয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তন্ময় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শোনেন এবং তাদের মুহুর্মুহু করতালিতে পুরো গণভবন এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। পরে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে পুনরায় সর্বসম্মতিক্রমে দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া এবং কোটালিপাড়া থেকেও নেতা-কর্মীরা এসে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
মিতু/বিবি নিউজ/৭৮
