চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহতের ঘটনা মামলা হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) ভোরে পুলিশ বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় ৫৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত তিন হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কমিটি গঠন
এদিকে, এস আলম গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে-বিপক্ষে দুই গ্রুপের উত্তেজনাকে ঘিরে পুলিশ-আনসার ও গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার রাতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিনুর রশিদকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটি প্রধানকে ঘটনা তদন্ত করে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক।
নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি
বাঁশখালীতে পুলিশ-গ্রামবাসী-পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। প্রশাসন তিনজন নিহতের কথা স্বীকার করলেও প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ৭ জন বলে জানান আন্দোলনকারীরা। অবশ্য গণমাধ্যমে অন্তত চার জন নিহতের কথা বলা হয়েছে। নিহতরা হলেন- গণ্ডামারা ইউনিয়নের চরপাড়ার দুই ভাই মরতুজা আলী (৫৫) ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম (৪৪), একই ইউনিয়নের রহমানিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা জাকের আহমদ (৬০)। এ ছাড়া রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মো. জাকের হোসেন নামের আরেকজন মারা যান।
তবে, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১১ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং ৯ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- গণ্ডামারা এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে মরতুজা আলী ও আনোয়ার হোসেন আংকুর এবং নূর আহমদের ছেলে জাকের আহমদ।
অন্যদিকে, বসতভিটা রক্ষা কমিটির নেতৃত্বদানকারী লেয়াকত আলী জানান, এ তিনজন ছাড়াও উমেদ আলীর ছেলে জাকের আহমদ (৪০), আবুল খায়েরের ছেলে জহির, ছুফি আলমের স্ত্রী কুলছুমা বেগম, পাঠান নামে এক ব্যক্তির ছেলেসহ মোট সাতজন মারা গেছে।
শিল্পগ্রুপ এস আলম ও চায়না সেবকো এইচটিজি যৌথভাবে কয়লাভিত্তিক এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ প্রকল্পে ৭০ শতাংশ মালিকানা এস আলম গ্রুপের বাকি ৩০ শতাংশ মালিকানা দুটি চীনা প্রতিষ্ঠানের।
জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, লবণ ও চিংড়ি চাষে জড়িতরা বেকার হওয়া, পরিবেশের বিপর্যয় ও বসতি হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করে ‘বসতভিটা রক্ষা কমিটি’ নাম দিয়ে স্থানীয় জনতা ওই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকাবাসীকে আসামি করে বাঁশখালী থানায় চারটি মামলা করা হয়। পুলিশ সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে গণ্ডামারা থেকে আসত আলী, হুমায়ুন কবির, শাহ আলম, বখতেয়ার ও লোকমানসহ ৭ জনকে আটক করে। তাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সোমবার বিকেল ৩টায় এ সমাবেশের ডাক দেয় বসতভিটা রক্ষা কমিটি। এসময় একই স্থানে প্রকল্পের পক্ষ নিয়ে অপর একটি গ্রুপ সমাবেশের ডাক দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকায় আইনশৃঙ্ক্ষলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় সমাবেশস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দুই পক্ষই সমাবেশ করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। #
