স্টাফ রিপোর্টার,১২ জানুয়ারি ২০২৩ (বিবিনিউজ): ঢাকার ধামরাইয়ে সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল মতিনের ঘুষ বাণিজ্য ও অসদাচরণের প্রতিবাদে দলিল লেখকদের কর্মবিরতিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে কালামপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবা গ্রহীতরা। দলিল সম্পাদন করতে এসে গত কয়েক দিনে বসে থেকে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন অনেক দলিল দাতা ও গ্রহীতারা। এসবের প্রতিবাদ করায় দলিল লেখকদের লাইসেন্স বাতিল করার হুমকী দিয়েছেন বলেও ওই সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দলিল লেখকদের অভিযোগ।
দলিল লেখকরা জানান,কালামপুর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের রেজিষ্ট্রার আবদুল মতিন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কালামপুর সাবরেজিস্ট্রার অফিসের ঘুষ-বানিজ্যর কারণে একরকম থমকে গেছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। এছাড়া সামান্য কারণে দলিল লেখকদের সাথে দুর্ব্যবহার করে থাকেন তিনি। ঘুষ, অনিয়ম আর দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করতে পারছেন না দলিল লেখকরা। ফলে দলিল দাতা গ্রহীতারাও এর ঘেরাকলে পড়ে হয়রানি শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আর দায়ভার ও বদনাম নিতে হচ্ছে দলিল লেখকদের। আর হয়রানির শিখার হচ্ছেন সেবা গ্রহীতারা।
তারা আরও বলেন ঘুষ-বাণিজ্যের প্রতিবাদ করলে দলিল লেখকদের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেন ওই সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল মতিন। শুধু তাই নয় এসব কারণে তিনি প্রতিবাদকারি ওই দলিল লেখকের দলিল সম্পাদনে কালক্ষেপণ করেন। ওই দলিল সম্পাদনের জন্য দলিল লেখককে অপেক্ষা করতে হয় রাত পর্যন্ত। এদিকে দলিল দাদা ও গ্রহীতারা তার ওপর ক্ষুব্দ হয়ে নানা ধরণের ভৎস্মনা করে থাকে। পেটের ও রুটি রোজগারের কথা ভেবে তাকে নীরবে নৃভৃত্বে সইতে হয় এসব লাঞ্ছনা বঞ্চণা। অপর দিকে ওই দলিল লেখকসহ চরম দূর্ভোগে পোহাতে হয় সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের। আর এসব কারনেই কর্ম বিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নেন কালামপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখখ সমিতির দলিল লেখকরা। দলিল লেখকদের এ কর্মবিরতির ফলে দূর দুরান্ত থেকে আসা সেবা গ্রহীতারা কালামপুর সাব- রেজিস্ট্রি অফিসে এসে ১ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দিনভর অপেক্ষা করার পরও দলিল সম্পাদন করতে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন।
এ বিষয়ে ধামরাই পৌর শহরের বড় চন্দাইল মহল্লার তুলন আক্তার বলেন, আমি গত বৃহস্পতিবার থেকে দলিল করার জন্য ঘুরছি। কিন্তু রেজিস্ট্রি করতে না পেরে বেশ সমস্যায় পড়েছি। আমি জমি বিক্রি করে টাকা নিয়ে বাহিরে চিকিৎসার জন্য যাব। কিন্তু জমি রেজিস্ট্রি করতে না পারায় টাকা জোগার করতে পারছি না। এখন আমাকে ঘরে বসে মরতে হবে,এমনটাই আমার মনে হচ্ছে।
দলিল লেখক সমিতির সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ মোহাম্মদ বদরুল আলমসহ অন্যান্য দলিল লেখকরা বলেন, দলিল রেজিস্ট্রি করাতে গেলে দলিল প্রতি লাখে এক হাজার টাকা,খাজনার চেক না থাকলে এক হাজার টাকা, পাকা পর্চা না থাকলে এক হাজার টাকা, হেবা ঘোষণা দলিলে সেরেস্তা খরচ এক হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন তিনি। এছাড়া মিউটেশন না থাকলে দুই হাজার টাকা ও প্রতি শতাংশের জন্য ৪০টাকা, আম-মোক্তার নামা দলিলে এক হাজার টাকা,এছাড়া অতিরিক্ত তিন হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, দানের ঘোষনা দলিলে এক হাজার টাকাসহ এক শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত তিন হাজার টাকা, ২০ শতাংশের বেশি হলে আলোচনা সাপেক্ষে ঘুষ নিয়ে থাকেন সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল মতিন।
তারা আরও বলেন,মর্টগেজ দলিলে সেরেস্তা খরচ এক হাজার টাকা, ১০ লাখ পর্যন্ত তিন হাজার টাকা। এর বেশি হলে আলোচনা সাপেক্ষে। দান ও বেলওয়াজ দলিলে সেরেস্তা খরচ এক হাজার টাকাসহ প্রতি লাখে তিন হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন তিনি। কমিশনের দলিল রেজিস্ট্রি করলে ধামরাইয়ের মধ্যে দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। এছাড়া কমিশনের দলিল রেজিস্ট্রি করলে তাকে দিতে হয় ২০ হাজার টাকা।
কাজেই আমরা বাধ্য হয়ে সকল দলিল লেখকরা এ কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল মতিন ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে এবিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাবরেজিস্ট্রারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এ বিষয়ে জেলা রেজিষ্ট্রার সাবিকুন নাহার বলেন, অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য কয়েক মাস আগে সেখানে অনিয়মের রিপোর্ট করতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তখন ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
ঢাকার ধামরাইয়ে ঘুষ বাণিজ্য ও অসদাচরণের প্রতিবাদে দলিল লেখকদের কর্মবিরতি
