রাজধানীর কলাবাগানে মার্কিন দূতাবাসের সাবেক কর্মকর্তা ও তার এক বন্ধুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুলহাস মান্নান ইউএসএআইডিতে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রটোকল কর্মকর্তা ছিলেন। এ ঘটনায় মান্নানের বন্ধু তন্ময়ও নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কলাবাগানের আসিয়া মঞ্জিল এর দ্বিতীয় তলায় থাকতেন জুলহাস। ওই বাড়ির নিরাপত্তা রক্ষী পারভেজ হামলায় আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার সময় ওই বাড়িতে দায়িত্ব পালন করছিলেন আরেক নিরাপত্তা কর্মী সুমন। পারভেজকে তিনিই হাসপাতালে নিয়ে যান।
সুমন গণমাধ্যমকে জানান, পাঁচ থেকে ছয়জন যুবক ওই বাড়িতে কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী বলে প্রবেশ করে দু’তলায় উঠে যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা নিচ থেকে চিৎকারের শব্ধ শুনতে পান। কি হচ্ছে জানতে পারভেজ উপরে উঠলে হামলাকারীরা তাকে ছুরি দিয়ে চোখে আঘাত করলে তিনি লুটিয়ে পড়েন। সুমন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহত জুলহাস মান্নান সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনির খালাতো ভাই। জুলহাস রূপবান পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ওই পত্রিকাটি সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতো। জুলহাস নিজেও সমকামীদের অধিকার নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মো. মারুফ হোসেন সরদার গণমাধ্যমকে বলেন, বাসায় ঢুকে দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছে একজন।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে কলাবাগান থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হাবিবুর রহমান জানান, নিহত দুজনের বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তিনি জানান, সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কয়েকজন যুবক পার্সেল দেওয়ার কথা বলে ওই বাড়িতে ঢোকেন। কিছু বুঝে উঠার আগেই যুবকেরা জুলহাজ ও মাহবুব তন্ময়কে চাপাতি দিয়ে মাথাসহ সারা শরীরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। ওই সময় বাসায় ছিলেন জুলহাজের বৃদ্ধ মা ও গৃহকর্মী। ঘটনার আকস্মিকতায় তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। ওই যুবকেরা দুজনকে কুপিয়ে দ্রুত বাসা থেকে বেরিয়ে যান। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন ওই বাড়ির দিকে ছুটে যান। তার আগেই যুবকেরা দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন স্থানীয় লোকজন তাদের ‘ছিনতাইকারী’ ‘ধর, ধর’ বলে চিৎকার করে ধাওয়া করেন। তখন ওই যুবকেরা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে লোকজনদের হুমকি দিতে দিতে পালাতে থাকেন। একপর্যায়ে কয়েকটি গুলি ছুড়ে তারা পালিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্র জানান, রাত ৮টার দিকে লাশ দু’টি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহত তনয় মজুমদার জুলহাসের বন্ধু ছিলেন।
এদিকে, ঘটনার পর ডা. দীপু মনিসহ অনেকেই ওই বাসায় ছুটে যান। পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারাসহ অনেকেই ওই বাসায় গিয়ে প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু করেন। জুলহাস ছয়তলা ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করতেন।
সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় র্যাব, পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। বাড়ির সামনে গণমাধ্যম কর্মী ছাড়াও উৎসুক জনতার ভিড় ছিল। বাড়ির প্রধান ফটক ভেতর থেকে ছিল আটকানো। ভেতরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়া আর কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না।
দিয়া ইসলাম/ ০৫
