ছানোয়ার হোসেন শামীম,সাভার,১৭ অক্টোবর, ২০২৬ (বিবিনিউজ):দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় দুর্গন্ধমুক্ত হয়েছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার এলাকার সাড়ে চার কিলোমিটারের সেই বিশাল ময়লার ভাগাড়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের তত্ত্বাবধানে মাত্র তিন মাসেই এলাকাটির চিরচেনা সেই দুর্গন্ধময় দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গিয়ে এখন একটি নান্দনিক ও সবুজ পরিবেশে রূপ নিয়েছে।ময়লার স্তুপ সরিয়ে গড়ে উঠছে দৃষ্টিনন্দন বাগান। একই সঙ্গে সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে সোলার প্যানেল ও উইন্ডমিল। উৎপাদিত হচ্ছে তিন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ। মহাসড়কের দুই পাশের দীর্ঘ দুই দশকের ময়লা-আবর্জনায় ভরা স্থানে সবুজায়নে ফিরেছে নান্দনিক পরিবেশে। উত্তর দুর্গন্ধের বদলে বিশুদ্ধ অক্সিজেন।

বদলে যাওয়া সেই দৃশ্যপট উদ্বোধন করতে আগামীকাল রোববার সকালে সাভারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতি মধ্যে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর পুর্বে তিনি সাভার সেনানিবাসের নবম পদাতিক ডিভিশনের আরেকটি কর্মসূচিতে যোগদান করেন।সাভারের আমিনবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপের কারণে চরম ভোগান্তিতে ছিলেন যাতায়াতকারী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তাঁরই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় ঢাকা জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্নকরণের এই কার্যক্রম শুরু হয়। রাজধানীর গাবতলী ছাড়িয়ে সাভারের প্রবেশ মুখেই রাস্তার দু’পাশে থাকা আবর্জনার স্তূপ থেকে আসা দুর্গন্ধে নাকাল হতে হতো পথচারী ও যাত্রীদের। বর্ষা মৌসুমে এসব বর্জ্য থেকে জলাবদ্ধতা ও মশার উপদ্রবও বাড়ত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ মাস ধরে সরেজমিনে কাজের অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী গত ৭ জুলাই মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার সময় আমিনবাজারের এই বেহাল দশা তাঁর নজরে আসে। সে সময়ই তিনি সবুজায়ন ও আধুনিকায়নের জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে এটি পরিষ্কারের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই দূরদর্শী নির্দেশনা বাস্তবায়নের পর ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে মহাসড়কের দুই পাশে নেটের ব্যারিকেড দিয়ে নিমগাছসহ সাড়ে ছয়শ বিভিন্ন জাতের বৃক্ষ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে বর্তমানে বেশ কিছু গাছে ফুলও ফুটতে শুরু করেছে। এছাড়া পুরো এলাকা আলোকিত করতে স্থাপন করা হয়েছে ১২০টি সোলার লাইট।

এক হাজার ট্রাক দিয়ে অপসারণ করা হয় সড়কের সাড়ে চার কিলোমিটার অংশে জুড়ে থাকা ১০ হাজার টন আবর্জনা। ভবিষ্যতে কেউ যেন সড়কের পাশে আর ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য ফেন্সিং নিমগাছ, চারা রোপণ করা হয়েছে নিম, সুপারি, তাল, মাধবী লতা, সিজিয়াম, ঝাউ, রঙ্গনসহ লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির সাড়ে ছয় হাজার গাছ। এসেছে তিন কিলোওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার উইন্ডমিল ও সোলার প্যানেল। একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আজসহ অধিকাংশ সময় পরিদর্শন এসে তদারকি করেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি,বিএনপি স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও ঢাকা -২ সাভার-কেরীনীগঞ্জ আসনের এমপি আমান উল্লাহ আমান , ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম ও সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম ।

প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনায় আবর্জনায় ফুল ফোটানোর এই উদ্যোগ শুধু একটি সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পই নয়, এটি হয়ে উঠেছে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সচেতনতা ও নাগরিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ।
