নারীদের পিছিয়ে রেখে দেশের সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়: ডিসি ফরিদা

ষ্টাফ রিপোর্টার,১১ আগস্ট, ২০২৬ (বিবিনিউজ ) :নারীদের পিছিয়ে রেখে দেশের প্রকৃত ও সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম।

তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাই নারীদের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। নারী এগিয়ে গেলে পরিবার, সমাজ ও দেশ এগিয়ে যাবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত SPRE প্রকল্পের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা জেলা প্রশাসক বলেন, উন্নয়ন কোনো একক বা স্বল্পমেয়াদি প্রক্রিয়া নয়। মানুষের জীবনে প্রকৃত ও টেকসই পরিবর্তন আনতে হলে দীর্ঘমেয়াদি, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন প্রয়োজন। আর এ ধরনের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসা এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা।

তিনি বলেন, নারীদের শুধু সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না রেখে তাদের এমনভাবে সক্ষম করে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারেন। এজন্য প্রান্তিক নারীদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), কারিগরি শিক্ষা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে হবে।

প্রান্তিক নারীদের সরকারি ও বেসরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জেলা প্রশাসক বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, আইনি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রয়োজনীয় সরকারি সেবাগুলো যেন কোনো জটিলতা ছাড়াই নারীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আয়মূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নারীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে। সহজ শর্তে ঋণ ও তহবিল, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং স্থানীয় ও অনলাইন বাজারে নারীদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের সুযোগ তৈরি করা গেলে তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা আরও দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের মতামত ও নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক উন্নয়ন ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারের একক প্রচেষ্টায় নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইইডির মতো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, নাগরিক সমাজ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসন, ঢাকা প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং নারী ক্ষমতায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে তিনি সমাজের প্রতিটি নারীকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

Related posts

Leave a Comment