কোরবানির ঈদে পশুর সংকট হবে না: সাভারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

ষ্টাফ রিপোর্টার,১৪ মে, ২০২৬ (বিবিনিউজ) : আসন্ন কোরবানির ঈদে দেশে পশুর কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন,”বাংলাদেশ বর্তমানে মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের খামারিরা এখন আধুনিক পদ্ধতিতে পশু লালন-পালন করছেন। এবারের ঈদে প্রায় এক কোটি গরু, মহিষ ও ভেড়া কোরবানি হতে পারে। দেশের বাইরে থেকে পশু আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই।”
ভারত থেকে অবৈধ পথে গরু আসা রোধে সরকার অত্যন্ত সজাগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো পশু প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আমরা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাথে একাধিক বৈঠক করেছি।”


‘এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে’ প্রধানমন্ত্রীর এই দর্শনকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮০ একরের জলাশয়ে ৪১২ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। মন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল এই জলাশয়কে মৎস্য সম্পদে রূপান্তর করতে এই প্রথম সরকারের পক্ষ থেকে বড় আকারের পোনা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ জিয়া হায়দার চৌধুরী। এছাড়া জাবির প্রো-ভিসি, জাকসু কর্মকর্তা, সিপিএন সংগঠক মেহেদী মামুনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


অপরদিকে পোনা অবমুক্তকরণ শেষে মন্ত্রী বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন।
মন্ত্রী সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ইনস্টিটিউটের গরু, মহিষ, ছাগল ও পোল্ট্রি গবেষণা প্রকল্পসহ বিভিন্ন ল্যাবরেটরি ঘুরে দেখেন। তিনি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। দেশের আমিষের চাহিদা পূরণ ও টেকসই উন্নয়নে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।”

Related posts

Leave a Comment