বুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলছে, ফাঁকা ক্যাম্পাসে বন্ধ ক্লাস–পরীক্ষা

২৮ আগস্ট ২০২৫(বিবিনিউজ): তিন দফা দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে বুয়েটের সব ক্লাস ও পরীক্ষা।

গতকাল বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন। ঘোষণা অনুযায়ী, বুয়েটসহ দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন কর্মসূচি পালন করার কথা রয়েছে।

আজ সকাল ১০টায় সরেজমিনে বুয়েটের বেশ কয়েকটি বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও শিক্ষার্থীরা আসেননি।

নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল আটটা থেকেই ক্লাস–পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেন। আজ কেউ আসেননি। তবে কয়েকটি বিভাগে কর্মকর্তা–কর্মচারীরা এসেছেন।

বুয়েটের এমই ভবনের নিরাপত্তাকর্মী মাসুদ রানা বলেন, শাটডাউন চলছে। এ জন্য শিক্ষার্থীরা আসেননি।

তিন দফা দাবিতে গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

একপর্যায়ে তাঁরা বেলা দেড়টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যেতে শুরু করেন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় তাঁদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। তখন লাঠিপেটার ঘটনাও ঘটে। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন।

পুলিশের লাঠিপেটার পর তাঁরা বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আবারও শাহবাগে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১০টার পর তাঁরা শাহবাগ মোড় ছেড়ে যেতে থাকেন।

রাতেই শাহবাগে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ওয়ালী উল্লাহ বলেন, ‘জনদুর্ভোগপূর্ণ কোনো কর্মসূচিতে আমরা ইমিডিয়েটলি যাব না। আগামীকাল বিকেল পাঁচটায় আমাদের সাংবাদিক ভাইদের উপস্থিতিতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের কাউন্সিল হলে পরবর্তী কর্মসূচির জন্য একটি সভা আহ্বান করছি।’

ওই সময় বুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ বলেন, ‘আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব। সে জন্য আগামীকাল দেশের সব ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপ্লিট শাটডাউন অব ইঞ্জিনিয়ার্স ঘোষণা করা হলো।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো নবম গ্রেড সহকারী প্রকৌশলী পদে কেবল পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ ও ন্যূনতম যোগ্যতা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার করা; দশম গ্রেডে শুধু ডিপ্লোমাধারীরা আবেদন করতে পারেন, সেখানে যেন উচ্চ ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা এবং শুধু বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং যাঁরা সম্পন্ন করবেন, তাঁরাই যেন প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) লিখতে পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।

প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারী ব্যক্তিদের পেশাগত দাবির যৌক্তিকতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গতকালই একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার।

Related posts

Leave a Comment