জাবিতে সাংবাদিক নিপীড়নের দায়ে ৬ শিক্ষার্থী ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

স্টাফ রিপোর্টার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ (বিবিনিউজ):জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সাংবাদিক নিপীড়নের দায়ে ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার, জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দুপুরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শিক্ষার্থীরা হলেন–আমিনুর রহমান সুমন, তাওসিফ সারার তুনান, হৃদয় রায়, নাঈম হোসেন, ইমতিয়াজ হোসাইন জিদান ও আব্দুল্লাহ আল আদনান। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র। এদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল আদনান শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক, অন্যরা ছাত্রলীগের সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
সিন্ডিকেট সদস্য বলেন,গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশে সাংবাদিক নিপীড়নের ঘটনায় ছয় শিক্ষার্থীকে এ শাস্তি দেওয়া হয়।
তাদের মধ্যে চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে স্থগিত বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। স্থগিত বহিষ্কারাদেশের অধীনে তারা ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে কোনো অপরাধে তারা জড়িত হলে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে। বাকি দুজনকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।’
এর আগে গত ২১ আগস্ট রাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে বার্তা সংস্থা ইউএনবি প্রতিনিধি আসিফ আল মামুনকে মারধরের অভিযোগ উঠে। হলের গেস্টরুমে ভিডিও করার সন্দেহে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি আবাসিক ছাত্র ও সাংবাদিক পরিচয় দিলে আরেক দফা মারধর করেন তারা।
অপরদিকে সাভারের বিরুলিয়ার দত্তপাড়া এলাকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৩ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের ডাইরেক্টর মিজানুর রহমান রাজু।
এ সময় তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি তদন্ত করে ৫১ জন ছাত্রকে সনাক্ত করেন। পরবর্তীতে সেই তালিকা থেকে ৮ জনকে বাদ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে সকল শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এদের মধ্যে একটি অংশ আপিল করেছে। এ ক্ষেত্রে এর সংখ্যা কমতে পারে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ তো শাস্তি দেওয়া নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে কারেকশন করা। সেদিক থেকে একজন ছাত্র বাদ যাওয়াও আমাদের জন্য দুঃখজনক।
বহিষ্কারকৃতদের মধ্যে কম্পিউটার সাইন্স ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের ছাত্রসংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলেও তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, গত ৫ নভেম্বর রাতে আশুলিয়ার চাঁনগাও এলাকায় ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার জেরে ৬ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

Related posts

Leave a Comment