ধামরাইয়ে নানা আয়োজনে ডিসি মিজ ফরিদা খানম

ষ্টাফ রিপোর্টার,২০ আগস্ট ২০২৬ (বিবিনিউজ):ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খানমের ধামরাই সফরের মধ্য দিয়ে আজ স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা, ক্রীড়া এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক বিশেষ কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়েছে। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি মেধাবী শিক্ষার্থী, অসহায় মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং উদ্যোক্তাদের মাঝে সহায়তা ও সামগ্রী বিতরণ করেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচির প্রথম অংশে ধামরাই উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ধামরাইয়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্পোর্টস ক্লাবের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন। একইসাথে তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পরিচালিত স্কুলের জন্য শিক্ষা ও খেলনা সামগ্রী প্রদান করেন।
এদিন ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রাপ্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৫ জন দুস্থ ও অসহায় রোগীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ১০ জন ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার এবং ৪২ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা বিতরণ করেন তিনি। স্বনির্ভরতা অর্জনে ৬ জন উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মীর মাঝে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয় এবং গ্রাম পুলিশদের মাঝে পোশাক ও সরঞ্জামাদি প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় ২০২৬ সালের পরীক্ষায় এ প্লাস প্রাপ্ত ১৮৬ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
দুপুরের দিকে আব্দুস সোবহান মডেল স্কুলে ৭০০ শিক্ষার্থীর হাতে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে গাছের চারা তুলে দেন জেলা প্রশাসক। দিনের শেষ ভাগে কুল্লা ইউনিয়নের রুপনগরে বেদে পল্লীতে ৬৩টি অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এ সময় পরিবারগুলোর মাঝে শুকনা খাবার, ঢেউটিন, নগদ ৭২ হাজার টাকা (প্রতি পরিবার ৬ হাজার করে), ১১৩ জনকে শাড়ী এবং ২০০ শিশুকে খেলনা উপহার দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী এই কার্যক্রম গুলোতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল-মামুন,ধামরাইয়ের সহকারী কমিশনার ভমি মোঃ ফাহিম সাহরিয়ার,কুল্লা ইউনিয়নের প্রশাসক জোহরা খাতুনসহ জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসকের এই সফর ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে ধামরাইয়ের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষক সমাজ অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

Related posts

Leave a Comment