১ নভেম্বর, ২০২১(বিবিনিউজ ):ঢাকার ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আ. মজিদের কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যাদবপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আজ সোমবার ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ওই ব্যক্তির নাম সিহান হোসেন (২০)। তিনি ওই ইউনিয়নের আমছিমুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মজিদের ছেলে। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সিহান নৌকার প্রার্থী আ. মজিদের কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে মো. ইমরান নামে স্থানীয় এক তরুণ মুঠোফোনে কল করে সিহান, তাঁর দুই বন্ধু আলমগীর ও রুবেল হোসেনকে নয়াপাড়া এলাকায় যেতে বলেন। সিহান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে সেখানে যাওয়ার পর মো. শামীম ও মো. শরীফ নামের ইমরানের দুই সহযোগীও সেখানে আসেন। সেখানে ঝামেলা হতে পারে বুঝতে পেরে রুবেল তাঁর বন্ধুদের নিয়ে সেখান থেকে চলে আসতে চাইলে সিহান ও আলমগীর জানান, তাঁরা পরে আসবেন।
পরে রুবেল সেখান থেকে একা চলে আসেন। এরপর ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল সিহান ও আলমগীরকে আমছিমুর উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে মারধর করেন। পরে আ. মজিদের সমর্থকেরা সিহান ও আলমগীরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের হাসপাতালে না নিয়ে আ. মজিদের সমর্থকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
একপর্যায়ে তাঁরা নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালান। খবর পেয়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ধামরাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সিহান ও আলমগীরকে রাজধানীর শ্যামলী পঙ্গু হাসপাতালে পাঠান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোর পাঁচটার দিকে সিহান মারা যান।
সিহানের মা নুরুননাহার প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বামী হারানোর পর দুই পোলা নিয়া ছিলাম। আমার পোলারে মাইরা ফালাইছে। আমি এর বিচার চাই।’
আ. মজিদ অভিযোগ করে বলেন, এটা নির্বাচনী সহিংসতার অংশ। স্থানীয় কর্মীদের মাধ্যমে জানা গেছে, সিহান, আলমগীর ও বিপ্লব একসঙ্গে ছিলেন। ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল সিহানকে ডেকে নিয়ে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে। সিহান, আলমগীর ও বিপ্লব—তাঁরা তিনজনই তাঁর কর্মী বলে আ. মজিদ দাবি করেন।
তবে বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমানের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত যাঁদের নাম শুনেছি, তাঁরা সবাই সিহানের বন্ধু। তাঁরা কেউই আমার কর্মী বা সমর্থক নন। কিছুদিন আগে মাদক ও মোবাইল বিক্রি করা নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল বলে শুনেছি। নির্বাচনী সহিংসতা নয়, পূর্বশত্রুতার কারণে এটা ঘটেছে। কিন্তু অযথাই আমার বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় মামলা করব।’
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনার পর রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি নির্বাচনী সহিংসতা নয় বলে মনে হচ্ছে। পূর্বশত্রুতার জেরেও এ ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্ত শেষে নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবার থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
