মোহাম্মদ সোহেল,কক্সবাজার,৬ জুলাই, ২০২৬ (বিবিনিউজ ) : টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে । সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে পৃথক ঘটনায় উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ৮ জন এবং কক্সবাজার শহরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।।
ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবরের (৫০) বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে তিনি ও পরিবারের আরও তিন সদস্য মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী পাহাড়ধসে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
অন্যদিকে, উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাত ৩টার দিকে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন— উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
এর আগে রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।
